নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই নজিরবিহীন কড়া মেজাজে ধরা দিল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠকে কার্যত ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর সাফ বার্তা, “আজকের রাতই হোক সেই রাত। যে রাতের পর বাংলায় যেন কোনও বেআইনি অস্ত্র, বোমা, নগদ টাকা ও মদের কারবার না দেখি।” অর্থাৎ, কালকের জন্য কিছু ফেলে না রেখে আজ রাতের মধ্যেই তল্লাশি অভিযান শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
হিংসা রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি: বৈঠক সূত্রে খবর, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলায় অশান্তি হওয়া এবং প্রাক-ভোট ও ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে বিরোধীদের গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ শুনে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কমিশন। এদিন কমিশনার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ভোটে যেন কোনও হিংসা না হয়। কোথাও অশান্তি হলে সেখানকার অফিসার দায়ী থাকবেন, তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা হবে।” বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বৈঠকেও কমিশন ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছে, এবার ভোট করাতে কোনও ‘খেলা’ বরদাস্ত করা হবে না।
বিনীত গোয়েলের সঙ্গে সংঘাত: এদিনের বৈঠকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি কমিশনের প্রশ্নের মুখে পড়েন এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েল। বিশেষ করে রাজ্যে মাদক বিরোধী আইন (PITNDPS) প্রয়োগের অভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিনীত গোয়েল যখন আইনি জটিলতা বা অ্যাডভাইজারি বোর্ডের ব্যাখ্যা দিতে চান, তখন কমিশন দৃশ্যত বিরক্ত হয় বলে জানা গিয়েছে।
অস্ত্র ও নগদ উদ্ধার নিয়ে সংশয়: ভোটের আগে স্পেশাল ড্রাইভ বা তল্লাশি অভিযান প্রতিবারই হয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও ভোটের দিন বোমাবাজির ঘটনা থামে না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। তবে এবার কমিশনের ‘গর্জন’ অনুযায়ী ‘বর্ষণ’ হবে কি না, অর্থাৎ বাস্তবে কতটা বেআইনি অস্ত্র বা মদ উদ্ধার হয়, এখন সেটাই দেখার।