নিউজ ডেস্ক: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে লিফট বিভ্রাট যেন দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কালিন্দীর যুবক অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার রাতে এবং বৃহস্পতিবার সকালে ফের দু’বার লিফট বিভ্রাটের ঘটনা ঘটল। এক সপ্তাহের মধ্যে বারবার এই ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগ হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
বুধবার রাত ১.৩০টা নাগাদ হাসপাতালের অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ের লিফট আচমকা আটকে যায়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকেন খোদ লিফটম্যান। আবার বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা নাগাদ পুরনো ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের ১ নম্বর লিফটে একই বিপত্তি ঘটে। সেখানে লিফটম্যান সহ সাতজন রোগীর আত্মীয় আটকে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ বন্ধ লিফটের ভেতরে থাকায় অনেকেরই শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত টেকনিশিয়ানদের তৎপরতায় তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, অরূপবাবুর মৃত্যুর ঘটনায় ট্রমা সেন্টারের সেই ‘অভিশপ্ত’ ২ নম্বর লিফট নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই লিফটটি নাকি যান্ত্রিকভাবে ‘ফিট’ ছিল! এমনকি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা এর ফিট সার্টিফিকেটও দিয়েছিল। অথচ ঘটনার আগের দিন থেকেই লিফটটি অস্বাভাবিক আচরণ করছিল বলে দাবি করেছিলেন রোগীর পরিজনরা। চারতলার বোতাম টিপলেও সেটি সরাসরি বেসমেন্টে চলে গিয়েছিল এবং সেখানে লক গেট থাকায় অরূপবাবু বেরোতে পারেননি, যার পরিণতি হয় ভয়াবহ।
এই পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে আর জি কর কর্তৃপক্ষ। বুধবার পূর্ত দপ্তর, পুলিশ এবং জুনিয়র ডাক্তারদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ১০ দফা সুরক্ষাবিধি জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের নেওয়া জরুরি পদক্ষেপসমূহ:
-
জরুরি নম্বর: হাসপাতালের প্রতিটি লিফটে স্পষ্ট করে জরুরি হেল্পলাইন নম্বর লেখা থাকবে।
-
প্যানিক বাটন: লিফটের ভেতরে আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য ‘প্যানিক বাটন’ বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
-
ইঞ্জিনিয়ারের উপস্থিতি: চব্বিশ ঘণ্টা হাসপাতালে একজন করে পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত থাকবেন।
-
লিফটম্যান বাধ্যতামুলক: লিফটম্যান না থাকলে সেই লিফটকে ‘অচল’ বলে গণ্য করা হবে এবং সাধারণের জন্য তা বন্ধ থাকবে।
-
বিকল্প পথ: এক মাসের মধ্যে পুরনো জেনারেল ইমার্জেন্সি এবং রোগীদের যাতায়াতের জন্য সমস্ত র্যাম্প ও জরুরি রাস্তাগুলি খুলে দেওয়া হবে।