নিউজ ডেস্ক: আর জি কর হাসপাতালে লিফ্টে আটকে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল এনআরএস (NRS) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। তবে এবার যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং লিফ্টচালকদের আকস্মিক কর্মবিরতির জেরে শুক্রবার সকাল থেকে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় হাসপাতাল চত্বরে। বেতনবৃদ্ধি ও নির্দিষ্ট শিফ্টে ডিউটির দাবিতে সরব হয়ে লিফ্টম্যানেরা কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, এনআরএস-এর এই লিফ্টচালকেরা সরাসরি সরকারি কর্মী নন; তাঁরা একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে নিযুক্ত। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দৈনিক আট ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনির পর মাস গেলে হাতে পান ১০ হাজার টাকারও কম। বাধ্য হয়েই অনেকে ‘ডাবল শিফ্ট’ করেন, যার ফলে মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে এবং পরিষেবা ব্যাহত হয়। তাঁদের দাবি, সরকারি বিধি মেনে মাসিক ন্যূনতম ১৩,৭০০ টাকা বেতন এবং নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার দুপুরে এনআরএস কর্তৃপক্ষ, পূর্ত বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার প্রতিনিধিরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ আলোচনার পর বেতন কিছুটা বাড়ানোর ‘আংশিক আশ্বাস’ মেলায় বিকেল থেকে কর্মবিরতি তুলে নেন চালকেরা। স্থির হয়েছে, আপাতত পুরনো শিফ্টেই কাজ চলবে তবে পারিশ্রমিক সামান্য বৃদ্ধি পাবে।
আর জি করের স্মৃতি এখনও টাটকা
উল্লেখ্য, ঠিক এক সপ্তাহ আগে আর জি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফ্টে আটকে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি কর্মীদের গাফিলতির অভিযোগও উঠেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার ফের আর জি করের অ্যাকাডেমি বিল্ডিংয়ের লিফ্ট আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই লাগাতার বিভ্রাট এবং এনআরএস-এর কর্মবিরতি রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলোর লিফ্ট পরিষেবা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।