নিউজ ডেস্ক: চৈত্র সেল শুরুর আগেই প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি। মরশুমের প্রথম কালবৈশাখীর ছোবলে তছনছ হয়ে গেল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর মহকুমা। ঝড়ের তাণ্ডবে দেওয়াল ও শেড চাপা পড়ে এবং টোটো উল্টে মৃত্যু হলো তিনজনের। রবিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জখম হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে উপড়ে গিয়েছে একের পর এক গাছ, ছিঁড়েছে রেলের ওভারহেড তার। সব মিলিয়ে লহমায় লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে রাঙামাটির জেলা।
বিষ্ণুপুর থানার ভড়া গ্রামের হাটতলায় এদিন বিকেল নাগাদ কালবৈশাখীর দাপট থেকে বাঁচতে একটি টিনের শেডের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা। কিন্তু ঝড়ের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সেই বিশালাকার শেডটি। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর জখম হন অন্তত পাঁচজন। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে রাধানগর ও পরে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাপস পাল (৪২)-কে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার ভোরে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান চণ্ডী লোহার (৫৩)।
অন্যদিকে, পাত্রসায়রের বালসি গ্রামের বাসিন্দা অভিজিৎ লাহা (৩৫) পেশায় ছিলেন টোটোচালক। রবিবার সন্ধ্যায় কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে ঝড়ের কবলে পড়েন তিনি। প্রবল হাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টোটোটি উল্টে গেলে তার নিচেই চাপা পড়েন অভিজিৎ। স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাত্রসায়র ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কালবৈশাখীর এই তাণ্ডব থেকে রেহাই পায়নি রেল পরিষেবাও। আদ্রা-খড়্গপুর শাখার ওন্দা ও বিষ্ণুপুর স্টেশনের মাঝে ওভারহেড তার ছিঁড়ে পড়ায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পড়ে পুরুলিয়া-হাওড়া রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস। দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। এছাড়া বিষ্ণুপুর শহরের একাধিক বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি বিষ্ণুপুর হাসপাতালের শীতল পানীয় জলের মেশিনটিও ঝড়ের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গাছ সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।