নিউজ ডেস্ক: মালদহের রাজনীতির এক দীর্ঘ ও বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল। বুধবার রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আবু হাসেম খান চৌধুরী। রাজনীতির আঙিনায় তিনি ‘ডালুবাবু’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯০ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে।
শেষ সফর ও মালদহে শোক:
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে বেশ কিছু দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বুধবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ জীবনাবসান হয় এই বর্ষীয়ান জননেতার। খবর পেয়েই কলকাতায় ছুটে আসেন তাঁর ভাগ্নি তথা চলতি বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম নুর। আজ, বৃহস্পতিবার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাঁর গড় মালদহে। সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। ডালুবাবুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ মালদহের ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের যাবতীয় নির্বাচনী কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক জীবন ও সাফল্য:
গনি খান চৌধুরীর উত্তরাধিকার বহনকারী আবু হাসেম খান চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন ছিল সাফল্যে মোড়া।
-
কালিয়াচক থেকে দিল্লি: ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কালিয়াচক বিধানসভার বিধায়ক ছিলেন। এর পর মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা তিন বার সাংসদ নির্বাচিত হন।
-
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব: ইউপিএ (UPA) সরকারের আমলে তিনি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন।
-
সাংগঠনিক দক্ষতা: দীর্ঘদিন মালদহ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে সংগঠনের রাশ ছিল তাঁরই হাতে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “ডালুবাবুর প্রয়াণ কংগ্রেস পরিবারের কাছে এক অপূরণীয় ক্ষতি। ব্যক্তিগত জীবনেও আমি এক পরম শুভানুধ্যায়ীকে হারালাম।” প্রিয় নেতার চিরবিদায়ের খবরে শোকাতুর মালদহের অগণিত অনুগামী ও সাধারণ মানুষ।