নিউজ ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই হুগলি জেলার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিদ্র করতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। শুক্রবার এক উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকে চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার সুনীল যাদব জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কমিশনারেট এলাকা থেকে ১৫৭ জন দাগি দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার রেকর্ড রয়েছে।

এদিন জেলা মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি এবং পুলিশ কমিশনার যৌথভাবে নির্বাচনের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান। জেলাশাসক স্পষ্ট করে দেন যে, আগামী ২ এপ্রিল থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর্ব শুরু হবে এবং তার জন্য যাবতীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশের অনুমতি নিয়ে কিছু অনিয়ম নজরে এসেছে বলে জানান তিনি। জেলাশাসকের কথায়, “নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতি মেনে আবেদন না জানালে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।”

চন্দননগর কমিশনারেটের নিরাপত্তা চিত্র:

  • কেন্দ্রীয় বাহিনী: বর্তমানে ১১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কমিশনারেট পুলিশ যৌথভাবে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ‘রুট মার্চ’ করছে।

  • অস্ত্র উদ্ধার: এলাকাকে অবৈধ অস্ত্রমুক্ত করতে বিশেষ অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

  • বিশেষ নজরদারি: অতীতে গোলমাল পাকিয়েছে এমন কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাঁদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে যাতে কোনও ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি না হয়।

  • সংবেদনশীল বুথ: জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে সংবেদনশীল বুথ এবং এলাকাগুলি চিহ্নিত করেছে, যেখানে ভোটের দিন অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে।

পুলিশ কমিশনার সুনীল যাদব আশ্বস্ত করেছেন যে, নাগরিকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। চন্দননগর এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ড্রোন ও সিসিটিভির মাধ্যমেও নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Share on Social Media