নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘ এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল বাংলার রাজপথে। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া তেল সংকটের রেশ এসে পৌঁছেছে কলকাতা-সহ জেলাগুলিতে। একদিকে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম ও অপর্যাপ্ত জোগান, অন্যদিকে বিধানসভা ভোটের জন্য বাস-মিনিবাস ‘হুকুম দখল’ (Requisition)—এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থা। অফিস যাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ, তপ্ত গরমে বাস পেতে কালঘাম ছুটছে সকলের।
গত কয়েকদিনে শহর ও শহরতলির রাস্তায় সরকারি ও বেসরকারি বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পেট্রল-ডিজেলের সংকটের বিকল্প হিসেবে যে সিএনজি (CNG) চালিত বাসগুলি আশার আলো দেখাচ্ছিল, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সেই গ্যাসের জোগানেও টান পড়েছে। ফলে বিকল্প জ্বালানির গাড়িগুলিও একে একে রাস্তা থেকে উধাও হতে শুরু করেছে।
ভোটের ডিউটি ও মালিকদের অনীহা:
সামনেই বিধানসভা ভোট। নিয়ম অনুযায়ী, পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের ডিউটির জন্য বেসরকারি বাস ও মিনিবাস রিকুইজিশন বা হুকুম দখল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু বাস মালিক সংগঠনগুলির মধ্যে এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। তাঁদের অভিযোগ:
-
ভাড়ার হার: নির্বাচন কমিশন গাড়ির যে ভাড়ার হার নির্ধারণ করেছে, তা বর্তমান জ্বালানির দামের তুলনায় অত্যন্ত কম।
-
হয়রানি এড়ানো: গাড়ি ডিউটিতে গেলে রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মীদের খরচ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই অনেক মালিক ‘ঝঞ্ঝাট’ এড়াতে গাড়ি গ্যারেজবন্দি করে রাখছেন, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণের পরিষেবায়।
ভাড়া নিয়ে টানাপোড়েন ও ভোগান্তি:
রাজ্যে গত পাঁচ বছর ধরে বাসভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সরকার ও মালিকপক্ষের টানাপোড়েন চলছে। অভিযোগ উঠছে, সরকারি নির্দেশিকা ছাড়াই বহু বেসরকারি বাস ও মিনিবাস যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। বাড়তি টাকা দিয়েও পর্যাপ্ত বাস না পাওয়ায় নিত্যযাত্রীদের ক্ষোভ এখন চরমে। অফিস টাইমে বাসে তিল ধারণের জায়গা থাকছে না, আবার রাতের দিকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বাসের দেখা মিলছে না।
দীর্ঘায়িত হবে সমস্যা:
নির্বাচন কমিশনের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশ। ৬ মে-র আগে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হবে না। ফলে বাসের এই সংকট ও যাত্রী ভোগান্তি যে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে চলেছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। জ্বালানি সংকট না মিটলে এবং বাস মালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় না হলে, গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।