নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘বিচারাধীন’ বা এসআইআর (SIR) তালিকা কোনওভাবেই সরানো যাবে না— এই দাবিতে অনড় থাকল বিজেপি। সোমবার কালীঘাটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তৃণমূলের ‘গো ব্যাক’ স্লোগান এবং কালো পতাকা দেখানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানালেন, “নো এসআইআর, নো ভোট; এটাই আমাদের অবস্থান।” ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
গুজরাট-উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ ও বঙ্গ রাজনীতি: অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির উদাহরণ টেনে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, গুজরাটে গত ২০ বছরে কোনও দাঙ্গা হয়নি। উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশেও সাম্প্রদায়িক বিবাদ বন্ধ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ বা উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে প্রতিনিয়ত অশান্তি ঘটছে। তাঁর অভিযোগ, “তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ মিডিয়া অনেক ঘটনা চেপে গেলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ সব দেখছেন।” সোমবারের বক্তব্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে বিচারব্যবস্থাকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে তোপ: ধর্মতলায় তৃণমূলের ধরনা নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, “মুখ্যমন্ত্রীর এজেন্ডা অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি চান বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা ভোটার লিস্টে থাকুক। মৃত ব্যক্তি এবং ভুয়া ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে দেওয়ার জন্যই এই লড়াই।” তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের স্বার্থে নয়, বরং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থরক্ষায় লড়াই করছেন।
কমিশনকে বিক্ষোভ নিয়ে বিদ্রুপ: কালীঘাটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তৃণমূলের বিক্ষোভ দেখানো প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বিদ্রুপের সুরে বলেন, “আমরা ওনাকে (জ্ঞানেশ কুমার) আসতে বলেছিলাম। আশা করি উনি ভালো সংবর্ধনা পেয়েছেন। এখানকার মানুষ কেমন আছেন এবং পরিস্থিতি কী, সেটা নিশ্চয়ই উনি বুঝতে পেরেছেন।” লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের আগে ভোটার তালিকা থেকে ‘ভুতুড়ে’ ভোটার সরাতে বিজেপি যে পিছু হঠবে না, এদিন সভাপতির মন্তব্যে তা ফের স্পষ্ট হয়ে গেল।