নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষিত হলো ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। রবিবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিলেন, এবার বাংলায় ভোট হবে মাত্র দু’দফায়। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল (১৫২টি আসন) এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল (১৪২টি আসন)। ৪ মে হবে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ।
নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যজুড়ে চালু হয়ে গেল আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct)। এর ফলে রাজ্য সরকার এখন থেকে কোনও নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত বা প্রকল্প ঘোষণা করতে পারবে না। প্রশাসনের রাশ চলে গেল সরাসরি কমিশনের হাতে। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে, তার আগেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল ৮ দফায় এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল ৭ দফায়। সেই তুলনায় এবার দফার সংখ্যায় বড়সড় কাটছাঁট করা হয়েছে। বিজেপি, কংগ্রেস ও বামেরা শুরু থেকেই এক বা দু’দফায় ভোটের দাবি জানিয়ে আসছিল। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য দফা নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও, ভোটার তালিকায় গরমিল নিয়ে বার বার সরব হয়েছে। এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে এবার ভোট ঘোষণা কিছুটা পিছিয়ে গেলেও দফার সংখ্যা কমিয়ে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে কমিশন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিচারে এবারের লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসন উপড়ে ফেলে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৬ ও ২০২১ সালেও বিপুল জয় পেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। গত বিধানসভা নির্বাচনে ২১৩টি আসন জিতে হ্যাটট্রিক করেছিল তারা। অন্যদিকে, শনিবারই ব্রিগেডের জনসভা থেকে বাংলাকে ‘বিকশিত বাংলা’ করার ডাক দিয়ে পরিবর্তনের সওয়াল করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার বিজেপিও জয়ের বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী।
এদিকে, দীর্ঘ বছর পর রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। বামেদের রণকৌশল এখনও স্পষ্ট নয়— আইএসএফ (ISF) বা অন্য কোনও দলের সঙ্গে জোট হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। সব মিলিয়ে মে মাসের তপ্ত গরমে বাংলার তখত কার দখলে থাকে, এখন সেটাই দেখার।