নিউজ ডেস্ক: চৈত্র মাসের শেষবেলায় এসেও আবহাওয়া যেন খামখেয়ালি। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আরামের দিন এবার শেষ হতে চলেছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় বৈশাখ আসার আগেই দক্ষিণবঙ্গে থাবা বসাতে চলেছে প্রবল গ্রীষ্ম। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে একধাক্কায় ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে তিলোত্তমা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভ্যাপসা গরম আর ঘাম ঝরানো অস্বস্তি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
শুকনো হাওয়ায় বাড়বে দাপট
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের জোগান কমে যাওয়ায় আপাতত বড় ধরনের ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। পরিবর্তে পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসছে শুকনো ও গরম হাওয়া। এর প্রভাবে আগামী ১৩ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আবহাওয়া অত্যন্ত উষ্ণ এবং আর্দ্র থাকবে। গত কয়েক সপ্তাহে ঘূর্ণাবর্তের জেরে যে মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার আমেজ এবার পুরোপুরি উধাও হতে চলেছে।
উত্তপ্ত হবে পশ্চিমাঞ্চল
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী পাঁচ দিনে দিনের তাপমাত্রা গড়ে ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও, উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার হবে তুলনায় কিছুটা কম (৩ থেকে ৫ ডিগ্রি)। শনিবার সর্বত্র আবহাওয়া শুষ্ক থাকলেও রবিবার ও সোমবার পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে। তবে তাতে গরম কমবে না; বরং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আরও বাড়বে। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে প্রবল গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সতর্কতা ও পরামর্শ
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বজায় থাকবে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত চড়া রোদে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। রোদের তাপ থেকে বাঁচতে ছাতা, টুপি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় জল সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে। বসন্তের বিদায়ঘণ্টার সঙ্গেই এ রাজ্যে গ্রীষ্মের এই দাপুটে প্রবেশ নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় সাধারণ মানুষ।