নিউজ ডেস্ক: অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন দুষ্কৃতীরা যাতে কোনওভাবেই এলাকায় দাপাদাপি করতে না পারে, তার জন্য বিশেষ ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। কমিশনের সাফ নির্দেশ, এলাকায় চিহ্নিত দাগি অপরাধীদের ভোটের ঠিক ৭২ ঘণ্টা আগে গ্রেপ্তার করে শ্রীঘরে পুরতে হবে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের ওই তিন দিন তাদের ঠিকানাই হবে থানার লকআপ।
লকআপেই কাটবে ভোটের দিন
শুক্রবার সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার এবং শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন কমিশনের কর্তারা। সেখানেই স্পষ্ট জানানো হয়, বহু জেলায় এখনও অনেক দাগি অপরাধী— যাঁরা খুন, খুনের চেষ্টা বা গুলি চালানোর মতো ঘটনায় অভিযুক্ত— তাঁরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশের নজরদারিতে এই গাফিলতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষকরা। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অপরাধের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের অবিলম্বে থানায় ডেকে পাঠিয়ে সতর্কতামূলক নোটিস দিতে হবে। ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে শুরু হবে সাঁড়াশি অভিযান। ভোট না মেটা পর্যন্ত কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের কোনও অজুহাতেই ছাড়া যাবে না।
জেলের অন্দরেও কড়া পাহারা
কমিশনের কাছে খবর এসেছে, সংশোধনাগারের ভেতরে বসে অনেক সময় প্রভাবশালী অপরাধীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাইরে থাকা তাদের শাগরেদদের নির্দেশ পাঠায়। ভোটারদের ভয় দেখানো বা বুথে অশান্তি পাকানোর এই ‘রিমোট কন্ট্রোল’ ব্যবস্থা ভাঙতে মরিয়া কমিশন। সেই লক্ষ্যেই একগুচ্ছ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
-
প্যারোল ও ছুটিতে স্থগিতাদেশ: ভোট চলাকালীন কোনও বন্দিকে প্যারোল বা অস্থায়ী ছুটিতে মুক্তি দেওয়া যাবে না।
-
জ্যামার অডিট: জেলের ভেতরে সিগন্যাল জ্যামার সক্রিয় আছে কি না, তা প্রতিদিন পরীক্ষা করে ‘লগবুক’ মেনটেন করতে হবে।
-
সেল তল্লাশি: জেলের প্রতিটি সেলে নিয়মিত তল্লাশি চালাতে হবে যাতে কেউ মোবাইল বা সিম কার্ড ব্যবহার করতে না পারে।
-
সাক্ষাৎকারে নজরদারি: ‘হাই রিস্ক’ বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের সঙ্গে কারা দেখা করতে আসছেন, তার ওপর বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। জেলের ভেতর থেকে কোনও গোপন বার্তা যাতে বাইরে পাচার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে জেল কর্তৃপক্ষকে।
স্বচ্ছতার দাওয়াই
কমিশনের কর্তারা সাফ জানিয়েছেন, ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া বা মারধরের মতো ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই এলাকাভিত্তিক অপরাধীদের তালিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। থানার আধিকারিকদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে— শান্তি রক্ষায় কোনও ‘অজুহাত’ চলবে না। অপরাধীদের বাগে আনতে এবার সরাসরি লোহা গরম করার নীতিতেই ভরসা রাখছে ইসিআই।