নিউজ ডেস্ক: ছুটির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভ্রুকুটি রাজ্যে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে ঝড়বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মোট ৮টি জেলায় ‘কমলা’ সতর্কতা (Orange Alert) জারি করা হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকবে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের মতো জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের গাঙ্গেয় জেলাগুলিতে বিকেলের পর থেকে কালবৈশাখীর অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
কেন এই আচমকা দুর্যোগ?
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে দু’টি বায়ুমণ্ডলীয় সিস্টেম সক্রিয় রয়েছে: ১. ঘূর্ণাবর্ত: উত্তর ওড়িশার ওপর একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। ২. নিম্নচাপ অক্ষরেখা: বিহার থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত একটি বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখা রয়েছে। এই দুইয়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে, যা শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘ (Thundercloud) তৈরির জন্য দায়ী। রবিবার বিকেল থেকেই ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব বর্ধমানের কিছু অংশে এই ধরণের মেঘের সঞ্চার দেখা গিয়েছে।
সতর্কবার্তা একনজরে:
-
কমলা সতর্কতা (দক্ষিণবঙ্গ): নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনা।
-
কমলা সতর্কতা (উত্তরবঙ্গ): দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার। (এখানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে)।
-
অন্যান্য জেলা: দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি রয়েছে। সেখানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
মঙ্গলবার ঝড়ের গতিবেগ বেশি থাকার কারণে কাঁচা বাড়ি, বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। কৃষকদের পাকা ধান ও সবজি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের পর থেকে ঝড়বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও সপ্তাহজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে।