নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ জেলার ২২টি বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে ভাগ্য নির্ধারণের পালা। মোট ২২০ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আজ বন্দি হবে ইভিএমে। ৬১৫৯টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের মধ্যে ২৩২৮টি বুথকে ‘সুপার সেন্সেটিভ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন। নজিরবিহীন নিরাপত্তায় জেলাজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ৩১৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে চলেছেন মহিলারা।
মহিলা ভোটাররাই চালিকাশক্তি: মুর্শিদাবাদ জেলায় মোট ৫০ লক্ষ ২৬ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় ২৪ লক্ষ ৩৭ হাজারই মহিলা। অনেক ক্ষেত্রেই এই সংখ্যাটি মোট ভোটের প্রায় ৫০ শতাংশ। বিশেষ করে বহরমপুর কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেশি। এখানে ১ লক্ষ ২২ হাজার মহিলা ভোটারের বিপরীতে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ১৮ হাজার। ডোমকল ও জলঙ্গির মতো সীমান্তবর্তী বিধানসভাগুলিতেও মহিলা ভোটারদের দাপট শাসক-বিরোধী সব শিবিরেরই কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অন্নপূর্ণা: তৃণমূলের তুরুপের তাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পগুলি। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী থেকে শুরু করে বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং তার বরাদ্দ বৃদ্ধি— শাসক দলকে বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষা ও নিশ্চিত আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোটবাক্সে তার প্রতিফলন ঘটার প্রবল সম্ভাবনা। তৃণমূল নেতা অশোক দাসের দাবি, “দিদির প্রকল্পের সুফল মহিলারা পাচ্ছেন, তাঁরা আত্মসম্মান ফিরে পেয়েছেন। তাঁরা দিদির পাশেই থাকবেন।” অন্যদিকে, বিজেপি তাদের ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও, সাধারণ মহিলাদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয়ে আছেন খোদ পদ্ম শিবিরের নিচুতলার কর্মীরাই।