নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনের উচ্চপদে একের পর এক রদবদল নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টে নজিরবিহীন সওয়াল করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের এভাবে রাতারাতি সরিয়ে দেওয়াকে ‘অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’-এর সঙ্গে তুলনা করে কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুললেন তিনি। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন রাজ্য ও কমিশনের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হয়।
নির্বাচন কমিশন গত ১৫ মার্চ ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনা এবং ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে। সোমবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন, “নির্বাচন কমিশন এভাবে স্বৈরাচারী আচরণ করতে পারে না। মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কিন্তু তাঁকে কোনও বিকল্প দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেই এমনটা দেখা যায়।” তাঁর আরও দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ৭৯ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এদিন প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা নির্বাচনের সরাসরি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের সরানোর ক্ষমতা কমিশন কোথায় পেল? অন্যদিকে, কমিশনের আইনজীবীরা পালটা যুক্তি দেন যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাঁদের এই ক্ষমতা রয়েছে। আদালত জানিয়েছে, জনস্বার্থের ক্ষতি হচ্ছে কি না এবং কমিশন তার এক্তিয়ার লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। আগামী বুধবার ফের এই মামলার শুনানি হবে।