নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী। বিজেপির একটি পূর্বনির্ধারিত মিছিলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বেঁধে যাওয়া সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সোনাখালি এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে উন্মত্ত জনতার হাতে আক্রান্ত হতে হল খোদ পুলিশকে। বাসন্তী থানার সাব-ইনস্পেক্টর সৌরভ গুহকে মাটিতে ফেলে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন পুলিশ কনস্টেবল জখম হয়েছেন।
বিজেপির দাবি, এদিন সোনাখালি এলাকায় তাঁদের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালীন অতর্কিতে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। মুহূর্তের মধ্যে দু’পক্ষের সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে, চলে ব্যাপক ভাঙচুর। বেশ কয়েকটি মোটরবাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর পেয়ে বাসন্তী থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁদের সঙ্গেও বচসা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সাব-ইনস্পেক্টর সৌরভ গুহ সেই সময় সাদা পোশাকে থাকায় তাঁকে চিহ্নিত করে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ। আহত পুলিশকর্মীদের দ্রুত উদ্ধার করে বাসন্তী গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার শুভেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, পুলিশের ওপর হামলা ও এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “যাঁরা এই ঘটনায় জড়িত বা নেপথ্যে থেকে ইন্ধন দিয়েছেন, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তদের ধরা হবে।” এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে রুট মার্চ ও টহলদারি শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বাসন্তীর বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার অভিযোগ করেছেন, “তৃণমূল গণতন্ত্রকে হত্যা করছে, পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল।” অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা রাজা গাজি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দিক। ভোটের আগে বাসন্তীর এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।