নিউজ ডেস্ক: আসন্ন রামনবমীতে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার রাশ শক্ত হাতে রাখতে এবং কোনও প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে নবান্নে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। বুধবার বিকেলের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মুখ্যসচিব। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) সহ পদস্থ আধিকারিকরা। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, উৎসবের নিরাপত্তায় রাজ্যজুড়ে মোতায়েন করা হচ্ছে ৩ হাজার পুলিশ কর্মী এবং পরিস্থিতি বিচারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রামনবমীর শোভাযাত্রা হতে পারে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সবচেয়ে বেশি মিছিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত হাওড়া, চন্দননগর এবং উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরকে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নে ২৪ ঘণ্টার জন্য একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে, যা সরাসরি সমস্ত মিছিলের গতিবিধির ওপর নজর রাখবে।
প্রশাসনের জারি করা কড়া নির্দেশিকা:
-
আদালতের মান্যতা: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। মিছিলে কোনও প্রকার মরণাস্ত্র বা তলোয়ার প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
-
সীমিত অংশগ্রহণ: প্রতিটি মিছিলে সর্বাধিক ৫০০ জন মানুষ অংশ নিতে পারবেন। এর বেশি জমায়েত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-
নির্দিষ্ট রুট: পুলিশ ও প্রশাসনের অনুমতি দেওয়া নির্দিষ্ট রুট এবং সময়ের বাইরে কোনও শোভাযাত্রা করা যাবে না।
-
ডিজে ও বাইক নিষিদ্ধ: মিছিলে উচ্চস্বরের ডিজে বক্স ব্যবহার করা যাবে না এবং যানজট এড়াতে বাইক র্যালি বা বাইক নিয়ে মিছিলে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন করাই বর্তমান লক্ষ্য বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। যে কোনও প্ররোচনা বা উসকানিমূলক কাজ রুখতে সাইবার বিভাগকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে।