নিউজ ডেস্ক: বিধাননগর তথা সল্টলেকের ব্যস্ততম করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ডের ভেতরে এক শিউরে ওঠা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক বাস খালাসি। মৃতের নাম রমজান আলি (৪০), বাড়ি মধ্যমগ্রামের বাদু এলাকায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতা-শিলিগুড়ি রুটের একটি বেসরকারি এসি ভলভো বাসের চাকা পরীক্ষা করতে গিয়ে হাইড্রোলিক সিস্টেমে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বাসস্ট্যান্ড চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসটি সেই সময় স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়েছিল এবং ইঞ্জিন চালু ছিল। হাইড্রোলিক সিস্টেমের কারণে বাসটি মাটি থেকে বেশ খানিকটা উঁচুতে উঠেছিল। সেই সুযোগে খালাসি রমজান বাসের তলায় ঢুকে পিছনের চাকা পরীক্ষা করছিলেন। আচমকাই বাসের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হাইড্রোলিক সিস্টেম কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ায় কয়েক টন ওজনের বাসটি সরাসরি রমজানের ওপর নেমে আসে। চোখের নিমেষে বাসের তলায় পিষ্ট হয়ে যান তিনি। বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে বাসস্ট্যান্ডের কংক্রিট চত্বর রক্তে ভেসে যায়, যা পরে জল দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। স্থানীয় এক দোকানদার জানান, “কয়েক মিনিট আগেই রমজানকে সুস্থ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকা বাসই যে কাল হয়ে দাঁড়াবে তা ভাবা যায়নি।” প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে এটি একটি যান্ত্রিক বিপর্যয়, তবে রক্ষণাবেক্ষণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসের চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
অন্যদিকে, নিউটাউন এলাকাতেও পথ দুর্ঘটনার বলি হলেন এক যুবক। গত মঙ্গলবার রাতে বাগুইআটির একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে শাহবাজ মোল্লা (২২) নামে এক বাইক চালকের। পুলিশ জানিয়েছে, নিউটাউনে একটি অটোর ধাক্কায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন তিনি। এই নিয়ে গত তিন মাসে শুধুমাত্র নিউটাউন এলাকাতেই পথ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯, যা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।