নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালের একটি মৌখিক নির্দেশ, আর তাতেই আড়াই মাস ধরে ঝুলে থাকা নিখোঁজ মামলার নিষ্পত্তি। গত সোমবার নন্দীগ্রামে ভোটের কাজ তদারকি করতে গিয়ে যে মানবিক উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন, তার ফলেই বুধবার কর্নাটক থেকে উদ্ধার হলো এক নাবালিকা। এই ঘটনায় নন্দীগ্রামেরই এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ অভিযোগ যে পুলিশ আড়াই মাস খুঁজে পেল না, বড় কর্তার নির্দেশে সেই নাবালিকা দু’দিনে উদ্ধার হলো কীভাবে?


চোখের জলেই মিলল প্রতিকার:

গত ৬ এপ্রিল, সোমবার নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন মনোজ আগরওয়াল। সেখানে স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অভাব-অভিযোগ  শোনেন তিনি। সেই ভিড়েই উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজ নাবালিকার মা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি সিইও-কে জানান, গত ১৫ জানুয়ারি থেকে তাঁর মেয়ে নিখোঁজ। নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা হয়নি। যদিও বিষয়টি নির্বাচনী আধিকারিকের এক্তিয়ারভুক্ত নয়, তবুও মানবিকতার খাতিরে তিনি সঙ্গে থাকা পুলিশ কর্তাকে অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

তৎপরতা ও সাফল্য:

সিইও-র কড়া নির্দেশের পর আর হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি পুলিশ। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন, নাবালিকা সুদূর কর্নাটকে রয়েছে। তড়িঘড়ি পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছে নাবালিকাকে উদ্ধার করে। ধৃত যুবককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রেমের সম্পর্কের জেরেই বাড়ি থেকে না জানিয়ে ওই যুবক ও নাবালিকা ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিল।

বিস্ময় ও স্বস্তি:

দীর্ঘ আড়াই মাস পর মেয়ের ফেরার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার খুশির হাওয়া নাবালিকার পরিবারে। তবে স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, সিইও-র নির্দেশের পর পুলিশের এই অবিশ্বাস্য তৎপরতা কি স্বাভাবিক তদন্ত প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে না? যাই হোক না কেন, মনোজ আগরওয়ালের এই সদিচ্ছাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন নন্দীগ্রামবাসী। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া নাবালিকা ও ধৃত যুবককে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Share on Social Media