নিউজ ডেস্ক: সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন নিয়ে রাজ্যের স্কুল পাঠ্যবইয়ে ‘বিকৃত ইতিহাস’ পড়ানো হচ্ছে— এই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু এবং তাতে নাম থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তোলা হয়। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, পাঠ্যবইয়ের ইতিহাস পর্যালোচনার এক্তিয়ার হাইকোর্টের আছে কি না, তা আগে খতিয়ে দেখা হবে।
মামলাকারীর আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন, পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইতে সিঙ্গুর আন্দোলনকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা আদতে এনসিইআরটি (NCERT)-র নির্দেশিকা মেনে করা হয়নি। তাঁর দাবি, এই আন্দোলনে নিহত তাপসী মালিকের মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন, অথচ তার আগেই একে ‘ইতিহাস’ হিসেবে পড়ানো হচ্ছে। আরও অভিযোগ, বইটিতে আন্দোলনকারী হিসেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের নাম রয়েছে, যাঁরা বর্তমানে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি। আইনজীবীর মতে, এতে পড়ুয়াদের মনে ভুল বার্তা যাচ্ছে।
জবাবে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে। আদালত প্রশ্ন তোলে, “একজন ইতিহাসবিদের কাছে যা সঠিক ইতিহাস, অন্যজনের কাছে তা ভুল হতে পারে। এই বিষয়ে আদালত কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে?” হাইকোর্ট আরও জানায় যে, পাঠ্যবইয়ের কোনও অংশ ‘রিভিউ’ বা পর্যালোচনা করার আইনি ক্ষমতা আদালতের হাতে কতটুকু রয়েছে, তা নিয়ে আগামী দুই সপ্তাহ পর মামলাকারীকে বিস্তারিত জানাতে হবে। তার পরেই এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইতে বিচারবিভাগ নিয়ে একটি বিতর্কিত লেখার জন্য সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে পড়েছিল এনসিইআরটি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই সিঙ্গুর মামলার জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে সব মহল।