নিউজ ডেস্ক: ছাত্র সংঘর্ষ এবং তার জেরে একাধিক অধ্যাপককে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় এবার কড়া অবস্থান নিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবারের সেই নজিরবিহীন ঘটনার তদন্তে সোমবার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের (আইএসআই) প্রাক্তন অধিকর্তা বিমল রায়ের নেতৃত্বে এই কমিটিতে রয়েছেন কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শ্যামল রায় এবং বোস ইনস্টিটিউটের অধ্যাপিকা শম্পা দাসের মতো ব্যক্তিত্বরা। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিটিকে মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম জারি করেছেন রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু (বা সেলিম বক্স মণ্ডল)। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ঢুকতে গেলে পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক। আইকার্ড না থাকলে অন্য বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে রেজিস্টারে নাম, ফোন নম্বর এবং কার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন, তা নথিভুক্ত করতে হবে। রাত ৮টার পর সান্ধ্য ক্লাসের পড়ুয়া ছাড়া বহিরাগতদের আড্ডা বা জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎসব বা ‘ফেস্ট’ চললেও তা রাত ৯টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
ক্যাম্পাসে মাদক সেবন বা নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য শুক্রবারের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন, যাদবপুর বৌদ্ধিক স্বাধীনতার পীঠস্থান, সেখানে অধ্যাপকদের ওপর হামলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার এসএফআই এবং ডব্লিউটিআই (WTI) সমর্থক পড়ুয়াদের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হন অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিনহা এবং ললিত মাধব। রাজ্যেশ্বরবাবুর চোখের আঘাত গুরুতর। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ক্যাম্পাসে শান্তি ফেরানোর দাবিতে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। টিএমসিপি-র তরফে অভিযুক্ত সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।