নিউজ ডেস্ক: হেরিটেজ তকমাধন্য পাহাড়ের ‘খেলনা গাড়ি’ বা টয় ট্রেন ফের বড়সড় দুর্ঘটনার মুখ থেকে ফিরে এল। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার পথে দার্জিলিং মোড় সংলগ্ন এলাকায় একটি বেপরোয়া চারচাকা গাড়ি রেললাইনের ওপর উঠে পড়ায় এই বিপত্তি ঘটে। তবে টয় ট্রেনের চালকের উপস্থিত বুদ্ধি এবং সময়মতো ব্রেক কষার ফলে প্রাণহানির মতো কোনও বড় ঘটনা ঘটেনি। যদিও ঘাতক গাড়িটির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) সূত্রে খবর, প্রতিদিনের মতো এদিনও শিলিগুড়ি থেকে পর্যটক বোঝাই একটি টয় ট্রেন দার্জিলিঙের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু দার্জিলিং মোড় পার করার পরেই দেখা যায়, একটি চারচাকা গাড়ি ট্রাফিক নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই আচমকা রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে। চালক ভেবেছিলেন ট্রেনের আগেই তিনি লাইন পার হয়ে যাবেন, কিন্তু হিসেবের ভুলে ট্রেনটি একদম সামনে চলে আসে।
চালকের তৎপরতা ও সংঘর্ষ:
বিপদ আসন্ন বুঝে টয় ট্রেনের চালক বারবার হুইসল বা বাঁশি দিলেও গাড়িচালকের হুঁশ ফেরেনি। শেষ মুহূর্তে বড় সংঘর্ষ এড়াতে চালক প্রাণপণে এমার্জেন্সি ব্রেক কষেন। তাসত্ত্বেও টয় ট্রেনের সামনের অংশ চারচাকা গাড়িটির পিছনে ধাক্কা মারে। ট্রেনের গতি কম থাকায় বড় কোনও আঘাত লাগেনি, তবে গাড়িটির পেছনের অংশ বেশ কিছুটা দুমড়ে গিয়েছে। ট্রেনের কোনও পর্যটক বা রেলকর্মী আহত হননি।
রেল কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ:
এই ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রেল প্রশাসন। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে সচেতনতার বিষয়। যখন দেখা যাচ্ছে টয় ট্রেন এগিয়ে আসছে, তখন গাড়িচালকের উচিত ছিল ঝুঁকি না নিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া। সামান্য সময়ের ভুলে বড় প্রাণহানি হতে পারত। আমরা পাহাড়ি এলাকায় চালকদের সচেতন করতে আরও বেশি প্রচারমূলক কাজ চালাব।”
উল্লেখ্য, পাহাড়ের সংকীর্ণ রাস্তায় টয় ট্রেনের সমান্তরালে গাড়ি চালানো বা হুটহাট লাইন পারাপার করার প্রবণতা বাড়ছে। এর আগেও একাধিকবার অসতর্কতার জেরে ছোটখাটো দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে টয় ট্রেন। পর্যটকদের সুরক্ষার খাতিরে রেললাইনের সংলগ্ন এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।