নিউজ ডেস্ক: দ্রুতগতিতে রোগী নিয়ে যাওয়ার পথে এক অধ্যাপিকাকে সজোরে ধাক্কা মারল একটি অ্যাম্বুলেন্স। মঙ্গলবার দুপুরে এই চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের শীতলকুচি কলেজের একেবারে সামনে। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন কলেজের শরীরশিক্ষা (Physical Education) বিভাগের অধ্যাপিকা শোভা বর্মন। বর্তমানে তিনি কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং কলেজে নিরাপত্তার দাবিতে সরব হয়েছেন পড়ুয়া ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
দুর্ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে নেমে কলেজের গেটের দিকে যাচ্ছিলেন অধ্যাপিকা শোভা বর্মন। ঠিক সেই সময় সিতাই থেকে শীতলকুচিগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুতগতিতে এসে তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাতে অধ্যাপিকা রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কলেজের দেওয়ালে গিয়ে ধাক্কা মারে। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শীতলকুচি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে কোচবিহারে রেফার করেন।
নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ: দুর্ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। শীতলকুচি-সিতাই রাজ্যসড়কের ওপর অবস্থিত এই কলেজের সামনে নেই কোনও স্পিড ব্রেকার বা পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা। ফলে দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচলের কারণে সারাক্ষণই দুর্ঘটনার মেঘ ঘনিয়ে থাকে। এদিন বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবিলম্বে কলেজের সামনে স্পিড ব্রেকার বসাতে হবে এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রদীপকুমার রায় বলেন, “পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সবসময়ই আশঙ্কায় থাকি। এদিনের ঘটনাই তার প্রমাণ।”
পুলিশি পদক্ষেপ: শীতলকুচি থানার ওস অ্যান্থনি হোড়ো জানিয়েছেন, ঘাতক অ্যাম্বুলেন্সটিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, জনস্বার্থে কলেজের সামনে স্পিড ব্রেকার বসানোর বিষয়টি নিয়ে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।