নিউজ ডেস্ক: মহাবিশ্বপ্রেমী ও জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুরাগীদের জন্য চলতি সপ্তাহান্ত এক বিরল মহাজাগতিক বিস্ময় নিয়ে হাজির হয়েছে। আজ ৭ মার্চ এবং আগামীকাল ৮ মার্চ—পরপর দু’দিন রাতের আকাশে এক বিরল গ্রহসংযোগের সাক্ষী থাকতে চলেছে বিশ্ব। পশ্চিম আকাশে সূর্যাস্তের ঠিক পরেই প্রায় একই সরলরেখায় ধরা দেবে তিন প্রতিবেশী গ্রহ— শুক্র, শনি এবং নেপচুন। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই স্বর্গীয় দৃশ্য দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ ৭ মার্চ শুক্র ও নেপচুনের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংযোগ তৈরি হবে। দুই গ্রহের মধ্যে দূরত্ব থাকবে মাত্র ০.০৪ ডিগ্রি, যা মহাকাশ বিজ্ঞানের নিরিখে কার্যত গায়ে গা লাগিয়ে অবস্থান করার মতো। এরপর আগামীকাল ৮ মার্চ কক্ষপথের হিসেবে শুক্র ও শনি একে অপরের খুব কাছে চলে আসবে। তখন তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব হবে প্রায় ১ ডিগ্রি, যা আকাশে একটি আঙুলের প্রস্থের সমান দেখাবে।
পশ্চিম দিগন্তে সন্ধ্যা ৬টার পর এই দৃশ্য সবচেয়ে স্পষ্ট হবে। শুক্র গ্রহ বর্তমানে আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল অবস্থায় রয়েছে, তাই খালি চোখেই তাকে প্রখর সাদা নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করতে দেখা যাবে। উজ্জ্বল শুক্রের ঠিক পাশেই কিছুটা ম্লান অবস্থায় অবস্থান করবে বলয়ধারী গ্রহ শনি। শনিকে খালি চোখে দেখা গেলেও একটি সাধারণ মানের দূরবীন বা বাইনোকুলার ব্যবহার করলে গ্রহটিকে আরও স্পষ্টভাবে চেনা সম্ভব হবে।
তবে দূরতম গ্রহ নেপচুনের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। অতি ম্লান হওয়ার কারণে নেপচুনকে খালি চোখে দেখা অসম্ভব। আকাশপ্রেমীদের এই গ্রহটিকে দেখতে হলে শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্য নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সূর্যাস্তের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর পর্যন্ত এই মনোরম দৃশ্য স্থায়ী হবে। ভারতের অক্ষাংশের কারণে পর্যবেক্ষণের সময় বেশ সীমিত থাকবে, তাই সূর্যাস্তের পর বিলম্ব না করে পশ্চিম আকাশে নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।