নিউজ ডেস্ক: জল্পনার অবসান হতে চলেছে আজই। সব কিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ কালীঘাট থেকে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটঘোষণার পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থীদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে চর্চা তুঙ্গে উঠেছিল, তার যবনিকা পতন হতে চলেছে আজ বিকেলেই। শাসক দলের এই তালিকায় এবার কোনো বড়সড় রদবদল বা চমক থাকে কি না, তা নিয়ে আগ্রহের পারদ চড়ছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২৯১টি আসনে লড়াই করেছিল তৃণমূল। পাহাড়ের তিনটি আসন ছেড়ে রাখা হয়েছিল স্থানীয় রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য। বর্তমানে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক দলের নেতা অনীত থাপার সঙ্গে শাসক দলের সুসম্পর্ক সর্বজনবিদিত। ইতিম্যধ্যেই পাহাড়ের তিনটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন অনীত। এই আবহে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি ২৯৪টি আসনেই এককভাবে লড়ার কথা ঘোষণা করবেন, নাকি সমীকরণে পুরনো পথই বজায় রাখবেন— সেটাই এখন দেখার।
অন্যদিকে, প্রার্থীতালিকায় ‘নবীন-প্রবীণ’ দ্বন্দ ও বয়সের মাপকাঠি নিয়ে চর্চা চলছে দলের অন্দরেই। বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ২১৯। যার মধ্যে ১৬ জন মন্ত্রী-সহ অন্তত ৫৭ জন বিধায়কের বয়স ৭০ বছরের গণ্ডি পার করেছে। দলের অন্দরে একাংশ যখন বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বা ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতির পক্ষে সওয়াল করছেন, তখন সত্তরোর্ধ্ব এই বর্ষীয়ানদের মধ্যে ক’জন ফের টিকিট পান, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
বর্তমান বিধায়ক তালিকায় ৩৮ জন মহিলা, ৪০ জন তফসিলি জাতিভুক্ত এবং ১১ জন তফসিলি উপজাতিভুক্ত প্রতিনিধি রয়েছেন। এছাড়া ৪৫ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এবং ১৪ জন চিকিৎসক বিধায়ক রয়েছেন। এঁদের মধ্যে কতজন পুরনো মুখ অপরিবর্তিত থাকে এবং কতজন নতুন মুখকে জায়গা করে দেন দলনেত্রী, তা আজ বিকেলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। প্রবীণ মন্ত্রীদের মধ্যে কেউ বাদ পড়ছেন কি না, সেই উত্তরও মিলবে কালীঘাটের প্রেস কনফারেন্স থেকে।