নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রের আশ্বাস সত্ত্বেও রান্নার গ্যাসের (LPG Crisis) সংকট দেশজুড়ে ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। বুধবার দিল্লির তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করা হলেও, ঘরোয়া সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে ২৫ দিন করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ‘ভারত পেট্রোলিয়াম’ এবং ‘ইন্ডিয়ান অয়েল’ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এবার থেকে রান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহারে রাশ টানতে হবে এবং অগ্রাধিকার দেওয়া হবে কেবল গার্হস্থ্য ব্যবহারকে। ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালীতে জোগান ব্যাহত হওয়ায় ভারতের জ্বালানি মানচিত্রে এই উদ্বেগের মেঘ ঘনিয়েছে।
কেন্দ্রের সতর্কতা ও বিকল্পের দাওয়াই: পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি সিলিন্ডার মজুত রুখতেই বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এদিকে গ্যাস বাঁচাতে বিচিত্র সব পরামর্শ দিচ্ছে তেল সংস্থাগুলি। রান্নায় প্রেশার কুকারের ব্যবহার বাড়ানো এবং একই সঙ্গে চাল-ডাল-সবজি সেপারেটরের মাধ্যমে সেদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। যদিও স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের দাবি, দেশে আপাতত দু’সপ্তাহের জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং বিকল্প পথে আমদানির চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, ভারত তার বার্ষিক চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যা এখন যুদ্ধক্ষেত্র।
রাজ্যের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘এসওপি’: বাংলার পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার নবান্নে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এ রাজ্যে বটলিং প্লান্টে যে গ্যাস তৈরি হচ্ছে, তা আপাতত ভিন রাজ্যে পাঠানো যাবে না। স্বাস্থ্য পরিষেবা, মিড-ডে মিল এবং আইসিডিএস-এর ক্ষেত্রে যাতে গ্যাসের জোগান অক্ষুণ্ণ থাকে, তার জন্য একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) তৈরি করছে রাজ্য। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার সব জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিরোধীদের তোপ ও দেশজুড়ে হাহাকার: কেন্দ্রের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই ২৫ দিনের নিয়ম চালু করে মানুষের উদ্বেগ বাড়ানো হয়েছে।” কেরালা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীরাও এই সংকটে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। অন্যদিকে, আইআরসিটিসি (IRCTC) তাদের বেস কিচেনগুলিতে ইন্ডাকশন এবং মাইক্রোওয়েভের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার আশঙ্কা, জোগান স্বাভাবিক না হলে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ রেস্তোরাঁ অচিরেই ঝাঁপ ফেলতে বাধ্য হবে।