নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের ঠিক মুখে বড়সড় ভাঙন জাতীয় কংগ্রেসে। কলকাতা পুরসভার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের লড়াকু কংগ্রেস কাউন্সিলার সন্তোষকুমার পাঠক সোমবার সরকারিভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগদান করলেন। এর সঙ্গেই কলকাতা পুরসভার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে কার্যত মুছে গেল জাতীয় কংগ্রেসের নাম। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, চিত্তরঞ্জন দাশ থেকে শুরু করে সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কংগ্রেসের আর কোনও প্রতিনিধি রইলেন না।
কলকাতা পুরসভার সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, বিধানচন্দ্র রায় এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো দিকপাল নেতারা একসময় এই পুরসভার মেয়রের আসন অলঙ্কৃত করেছেন। এমনকি তৃণমূলের প্রাক্তন মেয়র প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও গর্ব করে বলতেন এই কংগ্রেসী ঐতিহ্যের কথা। কিন্তু সন্তোষ পাঠকের দলবদলে সেই ‘সবেধন নীলমণি’ সূত্রটিও ছিন্ন হলো। এর ফলে পুরসভায় বিজেপির কাউন্সিলারের সংখ্যা ৩ থেকে বেড়ে ৪ হলো, যা কিঞ্চিৎ হলেও গেরুয়া শিবিরের শক্তিবৃদ্ধি করল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গঠনের পর থেকেই পুর-রাজনীতিতে কংগ্রেসের ক্ষয়িষ্ণু দশা শুরু হয়েছিল। এর আগে ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের রীতা চৌধুরী তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় ‘বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস’-এর অস্তিত্ব বিলীন হয়েছিল। এবার একই পথে হাঁটল মূল কংগ্রেসও। আপাতত কাগজে-কলমে সন্তোষ পাঠক কংগ্রেসের কাউন্সিলার থাকলেও, তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন থেকে বিজেপির ছাতার নিচেই পরিচালিত হবে। আগামী পুরভোটে কংগ্রেস যদি কোনও আসন না জেতে, তবে এই শতাব্দীপ্রাচীন সম্পর্কের শূন্যতা হয়তো আর কোনওদিনই পূরণ হবে না।