নিউজ ডেস্ক: উচ্চ প্রাথমিকে থমকে থাকা ১২৪১ জন প্রার্থীর নিয়োগ নিয়ে জট কাটতে আরও কয়েক দিন সময় চাইল রাজ্য শিক্ষাদপ্তর। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে আদালতের কাছে আগামী ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবীরা। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন মঞ্জুর করে ৮ এপ্রিল আদালত অবমাননার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণে গত ৩০ মার্চও আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল রাজ্যকে। আগামী ৮ এপ্রিল শুনানির দিন শিক্ষাদপ্তরের প্রধান সচিব বিনোদ কুমার, স্কুলশিক্ষা কমিশনার কৌশিক সাহা এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কেন থমকে ১২৪১ জনের নিয়োগ?
আট দফা কাউন্সেলিং শেষ হওয়ার পরেও এই প্রার্থীরা কেন নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না, তা নিয়ে শিক্ষাদপ্তরের যুক্তি ছিল মূলত ‘ম্যাচিং ভ্যাকেন্সি’ (Matching Vacancy)-র অভাব। অর্থাৎ:
-
জটিলতা: প্রার্থীদের ভাষামাধ্যম, লিঙ্গ এবং ক্যাটিগরির সঙ্গে বর্তমানে পড়ে থাকা শূন্যপদগুলি মিলছে না।
-
আদালতের অবস্থান: বিচারপতিরা অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিয়োগবিধির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য না থাকলেও আদালতের বিশেষ নির্দেশের ভিত্তিতে এই নিয়োগ করা সম্ভব। এর ফলে ভবিষ্যতে সরকারকে কোনও আইনি জটিলতায় পড়তে হবে না।
-
অবমাননার খাঁড়া: আদালতের বারবার নির্দেশের পরেও পদক্ষেপ না করায় অবমাননার মুখে পড়েছে শিক্ষাদপ্তর। ৩০ মার্চের শুনানিতেও বিচারপতিরা নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কড়া মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা:
প্রায় এক দশক ধরে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন এই প্রার্থীরা। আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থী মঞ্চের সভাপতি সুশান্ত সোম জানান, “জেলায় জেলায় ডিআই-দের (DI) কাছ থেকে আরও শূন্যপদের তালিকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই পদগুলি কেন সচিব স্তরে অনুমোদন পেল না, তা রহস্যজনক। কেন আমাদের ভবিষ্যৎ এভাবে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে?”
বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, ৮ এপ্রিলের আগে শূন্যপদ ও প্রার্থীদের তালিকার মধ্যে সামঞ্জস্য আনার শেষ চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের কড়া নির্দেশের পর এবার কি তবে দীর্ঘ ১০ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটবে? নজর এখন ৮ এপ্রিলের ভার্চুয়াল শুনানির দিকে।