নিউজ ডেস্ক: আদালতের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে উচ্চ প্রাথমিকের ১২৪১ জন প্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নড়চড় শুরু করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। শুক্রবারই সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শক বা ডিআই-দের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। মূলত নিয়োগপত্র পাওয়ার পরেও কতজন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি, সেই ‘নন-জয়েনিং’ শূন্যপদের খতিয়ান দিতে বলা হয়েছে। প্রার্থীর পরিচয়, বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের নাম-সহ পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এই শূন্যপদগুলি ব্যবহার করেই জট কাটানোর চেষ্টা করছে কমিশন।
উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই আদালতের নজরদারিতে চলছে। সাড়ে পাঁচ হাজার শূন্যপদ থাকলেও ১২৪১ জন প্রার্থীর নিয়োগ আটকে থাকায় আদালত অবমাননার মামলা পর্যন্ত হয়েছিল। এতদিন রাজ্যের তরফে জানানো হচ্ছিল, ‘ম্যাচিং ভ্যাকেন্সি’ বা উপযুক্ত শূন্যপদ (ভাষা, বিষয়, লিঙ্গ ও সংরক্ষণ অনুযায়ী) না মেলায় তাঁদের নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজনে নিয়োগবিধির কিছু অংশ শিথিল করে হলেও এই প্রার্থীদের দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। রাজ্য সরকার এই প্রক্রিয়ার জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। কমিশনের বর্তমান তৎপরতা দেখে আশার আলো দেখছেন অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীরা।
যদিও এই পদক্ষেপে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থী মঞ্চের প্রতিনিধিরা। মঞ্চের সভাপতি সুশান্ত সোম কমিশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও একটি বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, শুধু ‘নন-জয়েনিং’ শূন্যপদের ওপর ভরসা করলে সব প্রার্থীর নিয়োগ সম্ভব হবে না, কারণ এমন পদের সংখ্যা খুব বেশি হয় না। তাই তাঁর দাবি, বিদ্যমান শূন্যপদগুলির রোস্টার পরিবর্তন করে দ্রুত সবাইকে নিয়োগ দেওয়া হোক। উল্লেখ্য, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আইনি সমাধান না মিললে শিক্ষাকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত আরও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি মিলেছে।