নিউজ ডেস্ক: প্রবল বৃষ্টির জেরে উত্তর সিকিমে নামল ভয়াবহ ধস। মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ চুংথাং থেকে লাচেন যাওয়ার পথে একাধিক জায়গায় পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে প্রধান সড়ক। এর ফলে মাঝপথেই আটকে পড়েন অন্তত দু’শো পর্যটক। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজে নামে ইন্দো-টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশ (ITBP) এবং সিকিম প্রশাসন। আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি গুরুদ্বার ও আইটিবিপি ক্যাম্পে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়।
বুধবার সকাল থেকেই বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO) ধস সরিয়ে রাস্তা মেরামতির কাজে নামে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে। সিকিম প্রশাসন সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে কিছু পর্যটককে লাচুংয়ের দিকে পাঠানো সম্ভব হলেও, নিরাপত্তার খাতিরে বেশিরভাগ পর্যটককে গ্যাংটকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল জানিয়েছেন, ধসের কারণে পাহাড়ি রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকদের গাড়ি এগোতে বা পিছিয়ে আসতে পারছিল না। বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে পর্যটকদের ভ্রমণসূচিতে বড়সড় ছেদ পড়ল।
মঙ্গনের জেলাশাসক অনন্ত জৈন জানিয়েছেন, আবহাওয়া এবং রাস্তার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তবেই পর্যটকদের পুনরায় ওই পথে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। এদিকে আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিক গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, উত্তর সিকিমে আগামী আরও তিনদিন ভারী বৃষ্টিপাত চলবে। ফলে লাচুং ও লাচেন রোডে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলতি মাসেই লাচেন ও গুরুদংমার লেকের রাস্তা খুলে দেওয়ায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ছিল, কিন্তু এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফের অনিশ্চয়তার মুখে উত্তর সিকিমের পর্যটন। তবে স্বস্তির খবর এটাই যে, আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে এ রাজ্যের বাসিন্দারা থাকলেও প্রত্যেকেই বর্তমানে সুরক্ষিত আছেন।