নিউজ ডেস্ক: উদ্বোধনের আগেই ভগ্নদশা! বাঁকুড়ার কেশরা-কাটজুড়িডাঙা রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের কংক্রিট ব্লক উঠে গিয়েছে, কিছু অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। আগামীকাল, সোমবার থেকে এই স্টেশনে লোকাল ট্রেন দাঁড়ানোর কথা থাকলেও, তার আগেই এমন বেহাল অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনা ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
দীর্ঘদিন ধরে বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন কাটজুড়িডাঙা, কেশরা, শালবনী-সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা ট্রেন ধরতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়তেন। বাড়ির পাশে রেললাইন থাকলেও প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে বাঁকুড়া স্টেশন বা ১০ কিলোমিটার দূরে ছাতনা স্টেশনে যেতে হত তাঁদের। এর প্রতিকার চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেশরা-কাটজুড়িডাঙা এলাকায় একটি রেল স্টেশন নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। অবশেষে স্টেশনটি নির্মিত হলেও দীর্ঘ সময় অনাদরে পড়ে থাকার কারণে এর পরিকাঠামোয় ক্ষতি হয়েছে।
রেলের আদ্রা ডিভিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ওই স্টেশনে এখনও কাজ চলছে। প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ বেশ কিছুদিন আগেই সম্পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। আমরা কিছু জায়গায় ইতিমধ্যে মেরামতের কাজ করেছি এবং বাকি কাজও হয়ে যাবে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যকে আমরা গুরুত্ব দেব।” সোমবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আপাতত আপ ও ডাউনে ১০টি লোকাল ট্রেন এই স্টেশনে থামবে।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রক বাঁকুড়াকে বরাবর বঞ্চিত করে এসেছে। ছাতনা-মুকুটমণিপুর, বাঁকুড়া-মেজিয়া রেল প্রকল্প বিশবাঁও জলে। কেশরা-কাটজুড়িডাঙা রেল স্টেশনও উদ্বোধনের আগেই ভেঙেচুরে একাকার! আগামী দিনে আমরা রেলের এই বঞ্চনা বাঁকুড়াবাসীর কাছে তুলে ধরব।”
পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার। তিনি বলেন, “তৃণমূলের মুখে বঞ্চনার কথা মানায় না। বাঁকুড়া স্টেশনের আধুনিকীকরণ-সহ গত কয়েক বছরে জেলায় রেলের উন্নয়নে অনেক কাজ হয়েছে। বারবার বলা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার বাঁকুড়ায় রেল প্রকল্পের জন্য জমি দেয়নি।” ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেল প্রকল্পকে এখনো ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়নি এবং জমি পেলেই প্রকল্প রূপায়িত হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
কেশরা-কাটজুড়িডাঙা রেলস্টেশন উন্নয়ন কমিটির সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় পাল বলেন, “যাত্রীদের সুবিধার্থে রেলকে আরও অনেক কাজ করতে হবে। ট্রেনের স্টপের সংখ্যাও যাতে আগামী দিনে বাড়ানো হয়, সেই দাবি আমরা রেলকর্তাদের জানাব।”