নিউজ ডেস্ক: রাজ্য সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প ‘উৎকর্ষ বাংলা’ -কে ঢাল করে বড়সড় আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠল আলিপুরদুয়ারে। সেলাই প্রশিক্ষণের পর কাজ দেওয়ার টোপ দিয়ে ১২০ জন মহিলার কাছ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমারহাট এলাকা। প্রতারিত মহিলারা দলবদ্ধভাবে অভিযুক্ত প্রশিক্ষকের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রকল্পের জেলা প্রোজেক্ট ম্যানেজার।
প্রতারণার ছক ও অভিযোগের আঙুল: অভিযোগের তির প্রশিক্ষক দিলীপ বর্মনের দিকে। জানা গিয়েছে, উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণের পর সফলদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার কথা। মহিলারা কাজ পেয়েছেন— এমন রেকর্ড দেখালে তবেই প্রশিক্ষক পরবর্তী প্রকল্পের কাজ ও সরকারি অনুদান পান। অভিযোগ, এই সুযোগ নিতেই অভিযুক্ত প্রশিক্ষক দিলীপ বর্মন এক অভিনব ছক কষেন। তিনি প্রথমে প্রত্যেক মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান ঢুকিয়ে দেন। এরপর তিনি প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই টাকা ফের নগদে তুলে নেন। এভাবে তিন মাস ধরে প্রায় ১২০ জন মহিলার কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
বিক্ষোভ ও প্রশাসনিক তদন্ত: এই জালিয়াতির খবর জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর, বৃহস্পতিবার সকালেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শালকুমারহাট। প্রতারিত মহিলারা দিলীপ বর্মনের বাড়ি ঘেরাও করে টাকা ফেরতের দাবিতে সরব হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের জেলা প্রোজেক্ট ম্যানেজার সুকমল সাহা। তিনি বিক্ষোভকারী মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। প্রশাসন পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া: এদিন অভিযুক্ত প্রশিক্ষক দিলীপ বর্মন অসুস্থতার দোহাই দিয়ে বাড়ির বাইরে বেরোননি এবং সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি। তবে তাঁর স্ত্রীর দাবি, সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাঁর স্বামী কারও থেকে কোনও টাকা নেননি। এই ঘটনায় ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের স্বপ্নের প্রকল্পে এই ধরণের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।