নিউজ ডেস্ক: কখনও এলাকা দখল, আবার কখনও সঙ্গিনী পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা— দুই গন্ডারের দ্বৈরথে এখন কার্যত কালঘাম ছুটছে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের বনকর্মীদের। বনের ভিতর দুই গজরাজের লড়াই নতুন কিছু নয়, কিন্তু সেই লড়াইয়ের ঝাপটা এবার এসে পড়ছে লাগোয়া জনবসতিতেও। লড়াই করতে করতে বন্যপ্রাণীরা বারবার জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বর্তমানে গরুমারা জাতীয় উদ্যানে গন্ডারের সংখ্যা প্রায় ৬০। তবে বন দপ্তর সূত্রে খবর, উদ্যানে স্ত্রী ও পুরুষ গন্ডারের অনুপাতে অসামঞ্জস্য থাকায় প্রজনন মরশুমে পুরুষ গন্ডারদের মধ্যে সংঘর্ষ প্রায়ই ঘটে থাকে। গত সপ্তাহেই এমন এক লড়াইয়ে একটি গন্ডারের মৃত্যু হয়েছে। গত তিন-চার দিন ধরে মেদলা নজরমিনার সংলগ্ন এলাকায় ফের দুই গন্ডারের লড়াই শুরু হয়েছে। গত বুধবার একটি গন্ডার জলঢাকা ও মূর্তি নদী পেরিয়ে সরাসরি যাদবপুর চা বাগানে ঢুকে পড়ে, যাকে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনেক কসরত করে ফের জঙ্গলে পাঠানো হয়।
উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী প্রেমীদের আশঙ্কার বিষয় হল, এই সংঘর্ষে যাতে আর কোনও প্রাণহানি না ঘটে। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে কুনকি হাতির সাহায্যে এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের সাউথ রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার ধ্রুবজ্যোতি বিশ্বাস জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর সর্বক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে। আপাতত স্বস্তির খবর এটাই যে, লড়াই চললেও এখনও পর্যন্ত কোনও গন্ডার গুরুতর জখম হয়নি। তবে লোকালয়ে গন্ডারের এই বারবার হানা রুখতে বনকর্মীরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।