নিউজ ডেস্ক: রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট এবং ডিস্ট্রিবিউটারের বিরুদ্ধে ‘কালোবাজারি’র অভিযোগে মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার চণ্ডীপুর এলাকা। গ্রাহকদের দাবি, তাঁদের নামে বুক করা সিলিন্ডার ওটিপি (OTP) জালিয়াতি করে চড়া দামে হোটেল ও রেস্তরাঁতে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এই দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং সিলিন্ডারের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে হাড়োয়া-বাদুড়িয়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান কয়েকশো গ্রাহক, যাঁদের মধ্যে সিংহভাগই ছিলেন মহিলা।
গৃহবধূ থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক— মঙ্গলবার ভোররাত থেকেই চণ্ডীপুরের ওই গ্যাস এজেন্সির সামনে লম্বা লাইন দিয়েছিলেন কয়েকশো মানুষ। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সকালে এজেন্সির পক্ষ থেকে ‘সিলিন্ডার নেই’ বলে নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রাহকরা। শুরু হয় রাস্তা অবরোধ এবং দফায় দফায় বিক্ষোভ।
গ্রাহকদের গুরুতর অভিযোগ:
বিক্ষোভকারী মহিলাদের দাবি, গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে এক বিশাল চক্র সক্রিয় হয়েছে এলাকায়। তাঁদের অভিযোগ:
-
ওটিপি জালিয়াতি: অনেক গ্রাহকের অজান্তেই তাঁদের মোবাইলে আসা ওটিপি হাতিয়ে নিয়ে সিলিন্ডার ‘ডেলিভারি’ দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাস্তবে সেই সিলিন্ডার পৌঁছাচ্ছে কালোবাজারে।
-
চড়া দামে বিক্রি: সাধারণ গ্রাহকদের ‘নো স্টক’ বললেও, বাড়ির সিলিন্ডারগুলিই চড়া দামে স্থানীয় হোটেল ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
-
ভোররাতের লাইন: গত কয়েকদিন ধরেই রান্নার গ্যাসের জন্য রাত ২টো-৩টে থেকে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন মানুষ। কিন্তু দিনের শেষে কাউন্টার থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের।
থমকে গেল হাড়োয়া-বাদুড়িয়া রোড:
এদিন মহিলাদের মানববন্ধনের জেরে চণ্ডীপুর মোড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার চাতরায় হাটবার হওয়ায় কয়েকশো সবজি বোঝাই গাড়ি রাস্তার দু’ধারে প্রায় ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আটকে পড়ে। চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা। পরে বাদুড়িয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডিস্ট্রিবিউটারের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিলে কয়েক ঘণ্টা পর অবরোধ ওঠে।
মিড-ডে মিলেও টান:
গ্যাসের এই সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় স্কুলগুলিতেও। পিয়ারা তেঘরিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অমৃত মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গ্যাসের অভাবে সময়মতো ছাত্রছাত্রীদের মিড-ডে মিলের খাবার দিতে পারছি না। একদিকে রান্নার জন্য হাহাকার, আর অন্যদিকে সেই গ্যাসই কালোবাজারি হচ্ছে— এটা মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করা।”
গ্যাস এজেন্সির পক্ষ থেকে কালোবাজারির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, উপরতলা থেকে পর্যাপ্ত সিলিন্ডারের জোগান মিলছে না বলেই এই সমস্যা। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওটিপি জালিয়াতির কোনও লিখিত অভিযোগ পেলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।