নিউজ ডেস্ক: কয়লা পাচার মামলার (Coal Smuggling Scam) তদন্তে এবার আরও সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বুধবার সকালে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে রাজ্য পুলিশের আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে হানা দিলেন ইডি আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলে শুরু হয়েছে তল্লাশি। একই সঙ্গে ওই পুলিশ আধিকারিকের বাড়ির গেটে আগামী ১৩ মার্চ হাজিরার জন্য নতুন করে সমন (ED Summon) ঝুলিয়ে দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
হাজিরা এড়ালেই কড়া ব্যবস্থা: ইডির দাবি, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে এর আগে দু’বার মনোরঞ্জন মণ্ডলকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। এটি তাঁর বিরুদ্ধে তৃতীয় সমন। আগামী শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তাঁকে সশরীরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। গোয়েন্দাদের অনুমান, কয়লা পাচারের কারবার নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য যে ‘প্রোটেকশন মানি’র (Protection Money) লেনদেন হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ পৌঁছেছে এই পুলিশকর্তার কাছে। বর্তমানে তিনি বাড়িতে আছেন কি না তা স্পষ্ট না হলেও, তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে খবর।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই শুরু হয় কোপ: মনোরঞ্জন মণ্ডলের অতীত রেকর্ডও বেশ চাঞ্চল্যকর। ২০২৪ সালে নবান্নে এক প্রশাসনিক বৈঠকে কয়লা পাচার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, পুলিশের একাংশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআইএসএফ-এর যোগসাজশ ছাড়া এই পাচার সম্ভব নয়। এই কড়া বার্তার পরই বারাবনি থানার তৎকালীন ওসি থাকাকালীন মনোরঞ্জন মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে বুদবুদ থানার দায়িত্ব দেওয়া হলেও ইডি অভিযানের পর তড়িঘড়ি স্পেশাল ব্রাঞ্চে বদলি করা হয়।
তদন্তে নয়া মোড়: তদন্তকারীদের দাবি, গত ফেব্রুয়ারিতেও মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি মিলেছিল। বারাবনি ও বুদবুদ থানায় থাকাকালীন কয়লা মাফিয়াদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি। গোয়েন্দাদের নজর এখন শুক্রবারের হাজিরার দিকে। এবারও যদি এই পুলিশ আধিকারিক হাজিরা এড়িয়ে যান, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পথে চরম পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে ইডি।