নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসার প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় এসে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হলেন ওপার বাংলার প্রখ্যাত ভাস্কর ও ‘একুশে পদক’ জয়ী শিল্পী সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদের ছেলে। নিখোঁজ যুবকের নাম সৈয়দ আবদুল্লাহ জোহি (৩৪)। গত ১১ মার্চ বাগুইআটির কেষ্টপুর এলাকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও তাঁর কোনও হদিশ মেলেনি। এই ঘটনায় বিদেশের মাটিতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন শিল্পীর পরিবার।
পুলিশ সূত্রে খবর, জোহি তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় এসেছিলেন। বাগুইআটি থানার কেষ্টপুর প্রফুল্লকানন এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছিলেন তাঁরা। জোহির বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায়। গত ১১ মার্চ দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফিরে আসেননি তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে বাগুইআটি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নিখোঁজ যুবকের পাসপোর্ট, ভিসা ও ছবি রাজ্যের সমস্ত থানায় পাঠানো হয়েছে এবং ‘লুকআউট’ নোটিস জারির প্রক্রিয়া চলছে।
মোবাইল উদ্ধার ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্য
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট ও পরিবারের দাবি অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার দিন জোহি তাঁর মোবাইল ফোনটি সঙ্গে নিয়েই বেরিয়েছিলেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে ফোনটি একটি বাইকের সিটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন এক সবজি বিক্রেতা। জোহির স্ত্রী বারবার ফোন করার পর ওই সবজি বিক্রেতা ফোনটি রিসিভ করেন এবং পরে সেটি ফেরত দেন। জোহির পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে যে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তাঁর কিছুটা মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। সেই কারণেই কোনও বিপত্তি ঘটল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ বাংলাদেশের একজন বরেণ্য শিল্পী, যাঁর তৈরি ‘অপরাজেয় বাংলা’ ভাস্কর্যটি অত্যন্ত পরিচিত। তাঁর ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবরটি দুই বাংলার সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বাগুইআটি থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তাঁর গতিবিধি বোঝার চেষ্টা চলছে।” তবে ফোন ফেলে রেখে জোহি কোথায় গেলেন, তা নিয়ে ধন্দ কাটছে না তদন্তকারীদের।