নিউজ ডেস্ক: কারখানার নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন একের পর এক গ্রামবাসী। এই অভিযোগে শনিবার উত্তাল হয়ে উঠল হাওড়ার পাঁচলা থানার কুলাই এলাকা। কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোড অবরোধ করেন কয়েকশো ক্ষুব্ধ বাসিন্দা। দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর পাঁচলা থানার পুলিশ পৌঁছে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বেলডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলাই গ্রামে দীর্ঘদিনের একটি স্পঞ্জ আয়রন কারখানা রয়েছে। অভিযোগ, মাসখানেক আগে কারখানাটি সম্প্রসারণ করার পর থেকেই সেখান থেকে ঝাঁঝালো বিষাক্ত গ্যাস বেরোতে শুরু করেছে। গ্রামবাসীদের দাবি, এই গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় উপরে না উঠে নিচু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে কুলাই ও বেলডুবি গ্রামের ঘরে ঘরে মানুষ শ্বাসকষ্ট, বুক জ্বালা, মাথা যন্ত্রণা ও বমির মতো উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছেন। এমনকি শুক্রবারও ১০ জন গ্রামবাসীকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করতে হয়েছে।
প্রতারণার অভিযোগ ও জনরোষ
বিক্ষোভকারী সৌরভ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ সম্প্রসারণের সময় জানিয়েছিল সেখানে কেবল ‘গুদাম’ তৈরি করা হবে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে উৎপাদন বিভাগ চালু করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, আগে কারখানায় উৎপাদন হলেও এই ধরণের সমস্যা ছিল না, কিন্তু নতুন বিভাগটি চালু হওয়ার পর থেকেই জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর আগেও একবার বিক্ষোভ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বিভাগটি বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা ভঙ্গ করা হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের ভূমিকা
এই ঘটনায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। পাঁচলা বিধানসভা কেন্দ্রের ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী ফরিদ মোল্লা জানিয়েছেন, “এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে, দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন।”
কারখানা কর্তৃপক্ষ অবশ্য আগামী বুধবার গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আশ্বাস দিয়েছে এবং সেই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগটি বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে গ্রামবাসীদের সাফ হুঁশিয়ারি, যদি এবারও প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা হয়, তবে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশি টহল জারি রয়েছে।