নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে বুধবার সকাল থেকেই কার্যত আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল মালদহের কালিয়াচক। উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে কালিয়াচক-১ ব্লকের বিডিও অফিসে দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়েন সাত জন বিচারক। কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর অবশেষে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে ঘেরাও মুক্ত হলেন তাঁরা। তবে বিচারকদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও কালিয়াচকের পরিস্থিতি এখনও অগ্নিগর্ভ। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে হাড়কাঁপানো বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান:
বুধবার সকাল থেকেই কালিয়াচকের ১, ২ ও ৩ নম্বর ব্লকের কয়েক হাজার মানুষের নাম সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার অভিযোগে বিডিও অফিস চত্বরে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা।
-
বিচারক উদ্ধার: বিক্ষোভের আঁচ এতটাই তীব্র ছিল যে, অফিসের ভেতরে থাকা সাত জন বিচারক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শেষে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে বের হয়।
-
বিকল্প রুট: আন্দোলনকারীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক (পুরাতন ৩৪ নম্বর) অবরুদ্ধ করে রাখায় উদ্ধারকারী দল সেই পথে যাওয়ার ঝুঁকি নেয়নি। মালদহ-মোথাবাড়ি রাজ্য সড়ক হয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিচারকদের কনভয় নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জাতীয় সড়কে রান্নাবান্না, রাতভর অবস্থানের ডাক:
বিচারকদের বের করে নিয়ে যাওয়া হলেও বিক্ষোভ থিতিয়ে যাওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। উল্টে কালিয়াচকের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে:
-
রাস্তা আটক: ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর টায়ার ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
-
গণ-অবস্থান: সূত্রের খবর, রাস্তার ওপর উনুন জ্বালিয়ে রান্নাবান্না করছেন হাজার হাজার প্রতিবাদী। তাঁরা সাফ জানিয়েছেন, ভোটাধিকার ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত সারা রাত জাতীয় সড়কেই অবস্থান করবেন তাঁরা।
-
নিরাপত্তা: গোটা এলাকা কার্যত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ড্রোন দিয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বিচ্ছিন্ন উত্তর-দক্ষিণবঙ্গ: রেল ও সড়ক পথে চরম ভোগান্তি
এই নজিরবিহীন অবরোধের জেরে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
-
পরিবহন: কয়েক হাজার ট্রাক ও বাস জাতীয় সড়কে আটকে পড়ায় অনেক ঘুরপথে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
-
রেল পরিষেবা বিপযস্ত: বিক্ষোভের আঁচ পড়েছে রেললাইনেও। মালদহ শাখার বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়েছে। রেল সূত্রের খবর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতার রেল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসনের তরফে বারবার মাইকিং করে শান্ত থাকার আবেদন জানানো হলেও গ্রামবাসীদের দাবি—তাঁরা বংশপরম্পরায় এদেশের নাগরিক, কেন তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হল, তার বিচার না মেলা পর্যন্ত রাস্তা ছাড়বেন না তাঁরা।