নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার নজিরবিহীন রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মালদহের কালিয়াচক। কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে সাত জন জুডিশিয়াল অফিসার বা বিচারককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা। সূত্রের খবর, ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঘেরাও হয়ে রয়েছেন ওই বিচারকরা। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP)-র কাছে জরুরি রিপোর্ট তলব করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
বিচারক বন্দি ও কমিশনের সক্রিয়তা:
বিডিও অফিসে বিচারকদের ঘেরাও করার বিষয়টি ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থলে ছুটছেন মালদহের এসপি (SP) এবং ডিআইজি (DIG)। কমিশনের নির্দেশে এলাকায় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হলেও রাত পর্যন্ত ঘেরাও মুক্ত করা সম্ভব হয়নি বিচারকদের।
অবরুদ্ধ ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক, রাস্তায় রান্নাবান্না:
ফারাক্কা থেকে বৈষ্ণবনগর এবং সুজাপুর হয়ে কালিয়াচক ঢোকার রাস্তা অর্থাৎ ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক (পুরাতন ৩৪ নম্বর) সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। আন্দোলনকারীরা রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এমনকি জাতীয় সড়কের ওপর উনুন জ্বালিয়ে রান্না ও খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সাফ কথা, ভোটাধিকার ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে।
বিচ্ছিন্ন উত্তর-দক্ষিণবঙ্গ: বিপযস্ত রেল ও সড়ক পথ
এই দীর্ঘ অবরোধের জেরে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সড়ক যোগাযোগ কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
-
ঘুরপথ: বাস ও লরিগুলিকে মালদহ যাওয়ার জন্য ডালখোলা এবং বিহারের পূর্ণিয়া রোড হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
-
রেল পরিষেবা: বিক্ষোভের আঁচ পড়েছে রেললাইনেও। মালদহ শাখার বিভিন্ন রুটে একাধিক দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়েছে। রেল সূত্রের খবর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতার রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
-
বিজেপির তোপ: কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “তৃণমূলের উস্কানিমূলক কথাবার্তার ফলেই আজ বিচারকদের এই হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত মুখ্যমন্ত্রীকে সাবধান করা যাতে তিনি এসআইআর (SIR) নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ান।”
-
তৃণমূলের পাল্টা দাবি: তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী সব দায় নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপিয়ে বলেন, “সব নৈরাজ্যের কারিগর কমিশন। তাদের তুঘলকি ফরমানে মানুষকে বেনাগরিক করে দেওয়া হচ্ছে। এখন ডিএম-এসপি সব কমিশনের হাতে, তাঁরা কেন এই অবরোধ তুলতে পারছেন না?”
কালিয়াচক ও সুজাপুর এলাকা আপাতত থমথমে। পুলিশ প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে বিচারকদের মুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে রাতের অন্ধকারে উত্তেজনার পারদ আরও চড়বে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে জেলা প্রশাসন।