নিউজ ডেস্ক: রেলে চাকরি দেওয়ার টোপ দিয়ে বর্ধমানের খণ্ডঘোষে বসে ভুয়ো প্রশিক্ষণ শিবির চালানোর অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল কলকাতার তালতলা থানার পুলিশ। ধৃতের নাম রাজু দাস। তদন্তকারীদের দাবি, রেলে নিয়োগ দুর্নীতির এই চক্রের অন্যতম ‘কিংপিন’ বা পান্ডা হলো এই রাজু। শুক্রবার তাকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার এক বাসিন্দা তাঁর দুই ছেলেকে রেলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। দুই যুবকের চাকরির বিনিময়ে তাঁদের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে তাঁদের খণ্ডঘোষে নিয়ে গিয়ে রেলের কাজের রীতিমতো ‘প্রশিক্ষণ’ দেওয়া শুরু করে রাজু। পরে ওই পরিবার বুঝতে পারে যে গোটা প্রক্রিয়াটিই ভুয়ো।
এই প্রতারণা মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ এর আগেই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল। ধৃতদের জেরা করেই এই চক্রের মূল হোতা রাজু দাসের হদিস পায় পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় খণ্ডঘোষে হানা দিয়ে রাজুকে পাকড়াও করে তালতলা থানার একটি বিশেষ দল।
শুক্রবার আদালতে শুনানির সময় ধৃতের আইনজীবী যে কোনও শর্তে জামিনের আবেদন জানালেও সরকারি কৌঁসুলি তার তীব্র বিরোধিতা করেন। সরকারি আইনজীবীর সওয়াল ছিল, অভিযুক্ত প্রভাবশালী এবং জামিন পেলে সে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করে পালিয়ে যেতে পারে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে অভিযুক্তকে পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই জালিয়াতি চক্রের জাল আর কতদূর বিস্তৃত এবং রাজুর সঙ্গে রেলের কোনও অসাধু কর্মীর যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।