নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় সাধারণ মানুষের নাম বাদ পড়া বা ‘বিচারাধীন’ থাকা নিয়ে বিতর্ক চলছিলই, এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল খোদ এক জনপ্রতিনিধির নাম। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের দুইবারের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডলের নাম এবার নির্বাচন কমিশনের ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন তালিকায় স্থান পেয়েছে। একজন বর্তমান বিধায়কের নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার নিয়ে প্রশাসনের এই অবস্থানে জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
তোরাফ হোসেন মণ্ডল কেবল একজন বিধায়ক নন, তিনি একজন প্রাক্তন সরকারি আধিকারিকও বটে। ১৯৮০ সালে চাকরিতে যোগ দিয়ে টানা ৩৯ বছর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৯ সালে অবসর নেন তিনি। ২০০২ সাল থেকে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কেন এমন পরিস্থিতি, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, “যিনি ৩৯ বছর সরকারের উচ্চপদে আসীন ছিলেন এবং জনগণের ভোটে দু’বার বিধানসভায় গিয়েছেন, তাঁর নাম কীভাবে আজ বিচারাধীন হতে পারে? এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, কুমারগঞ্জ এলাকায় বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই তালিকায় রাখা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের নামান্তর।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না মিললেও, জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, তথ্যগত কিছু অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার জন্যই কিছু নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ স্তরে রাখা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন বর্তমান বিধায়কের নাম এই তালিকায় থাকা ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। বিরোধীরাও এই বিভ্রান্তির দ্রুত অবসান এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।