নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর মেগা সভার আগে খোদ খাস কলকাতায় মন্ত্রীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। শনিবার গিরিশ পার্কে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। কেন এই অশান্তি রোখা গেল না এবং কেনই বা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা হলো না— তা নিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে কমিশন। শহর কলকাতায় ইতিমধ্যেই ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কমিশনের প্রশ্ন, স্পর্শকাতর এলাকায় এই অশান্তি যখন চরম আকার নিচ্ছিল, তখন কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়নি? কয়েক দিন আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভোট পর্বে কোনও রকম রক্তপাত বা হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। সেই হুঁশিয়ারির পরেও খোদ কলকাতায় খোদ মন্ত্রীর ওপর এমন হামলার ঘটনা কমিশনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকেই চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
লালবাজার সূত্রে খবর, এদিনের অশান্তিতে মন্ত্রী শশী পাঁজা ছাড়াও বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। ইটের ঘায়ে পুলিশের গাড়ির কাচও ভেঙেছে। কমিশন জানতে চেয়েছে, ঘটনার সময় পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী সেখানে উপস্থিত ছিল কি না এবং থাকলে তারা কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারল না।
অন্যদিকে, শনিবারই একটি বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানিয়েছে, উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও হিসেবে কলকাতা পুরসভার কমিশনার পদমর্যাদার কোনও আধিকারিককে নিয়োগ দেওয়া যাবে। ভোটের আগে শহরের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে কমিশনের এই সক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।