নিউজ ডেস্ক: রান্নার গ্যাসের উত্তরোত্তর মূল্যবৃদ্ধি এবং জোগানে অনিশ্চয়তা— এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন ব্যবহারের দাওয়াই দিয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রীর এই নিদানেই ঘোরতর বিপদ দেখছেন পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের আশঙ্কা, গ্যাসের বদলে কেরোসিন, কাঠ বা কয়লার ব্যবহার বাড়লে বাতাসে বিষের মাত্রা একলাফে বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সংসদে মন্ত্রী জানিয়েছেন, এলপিজি-র (LPG) ওপর চাপ কমাতে পিডিএস ও খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে কেরোসিন সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু পরিবেশবিদদের মতে, কেরোসিন দহন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা (PM 2.5) নির্গত হয়, তা প্রাণঘাতী। পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র এক লিটার কেরোসিন পোড়ালে বাতাসে প্রায় আড়াই কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড মেশে, যা বিশ্ব উষ্ণায়নের অন্যতম প্রধান কারণ।
পরিবেশকর্মী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী এই আশঙ্কার কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছেন, কেরোসিনের ধোঁয়ায় থাকা ব্ল্যাক কার্বন এবং সূক্ষ্ম বস্তুকণা সহজেই মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে কার্বন মনোক্সাইড রক্তে মিশে অক্সিজেন পরিবহণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এছাড়া কেরোসিনের অসম্পূর্ণ দহনের ফলে তৈরি হওয়া ‘ফোটোকেমিক্যাল স্মগ’ থেকে চোখ জ্বালা ও ত্বকের সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, রাসায়নিক ভাবে কেরোসিনের ভাঙন (biodegradation) অত্যন্ত ধীর গতিতে হয়, ফলে এর অবশেষ দীর্ঘক্ষণ পরিবেশকে বিষাক্ত করে রাখে। একদিকে যখন বিশ্বজুড়ে দূষণমুক্ত ‘সবুজ জ্বালানি’র কথা বলা হচ্ছে, তখন রান্নার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কেরোসিন বা কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে ফিরে যাওয়াকে ‘পিছিয়ে পড়া’ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন পরিবেশ সচেতন মহল। তাঁদের মতে, এই নীতি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসার খরচ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।