নিউজ ডেস্ক: পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহ, আর সেই আক্রোশ থেকেই ঘুমন্ত স্ত্রীর গলা কেটে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর মাকাল পাড়া এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বীথিকা শাসমল (৩৩)। অভিযুক্ত স্বামী বাপন শাসমলকে বুধবার সকালে নিউ টাউন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে বাসন্তী থানার পুলিশ।
অশান্তির মূলে পেশা ও সন্দেহ: স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পনেরো আগে সন্দেশখালির বাসিন্দা বাপনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল গোসাবার বীথিকার। তাঁদের ১৪ বছরের একটি মেয়েও আছে। বীথিকা একটি লোন প্রদানকারী সংস্থায় কাজ করতেন। অভিযোগ, স্ত্রীর কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীদের সঙ্গে মেলামেশা বা অনুষ্ঠান পছন্দ করত না বাপন। এই নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। এমনকি বাপন মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীর ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালাত বলেও দাবি করেছেন তাঁদের মেয়ে।
ক্ষমা চেয়েই খুনের ছক: সম্প্রতি অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছলে মেয়েকে নিয়ে বাসন্তীতে দিদির বাড়ি চলে আসেন বীথিকা। মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে হাজির হয় বাপন। মৃতার দিদি ঝুমা ঘুঘু জানান, বাপন এসে বোনের পায়ে পড়ে ক্ষমা চেয়েছিল। দিদি তাঁদের মিটমাট করে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও বীথিকা রাজি হননি। তাঁর আশঙ্কা ছিল, বাপন তাঁকে মেরে ফেলবে। সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো মঙ্গলবার রাত ১টা নাগাদ। সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে বীথিকার গলা কেটে দিয়ে বাইক নিয়ে চম্পট দেয় বাপন। চিৎকারে বাড়ির লোক এসে দেখে বিছানা রক্তে ভাসছে।
পুলিশি তৎপরতা ও দাবি: ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল বাপন। বাসন্তী থানার পুলিশ তদন্তে নেমে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে বুধবার ভোরে নিউ টাউন এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করে। মৃতার মেয়ের দাবি, বীথিকা ডিভোর্স চেয়েছিলেন বলেই আক্রোশ আরও বেড়ে গিয়েছিল বাপনের। মা’কে হারানোর বিচার ও বাবার কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে সে। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার নেপথ্যে আর কোনও কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।