নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের চা বলয় আজ অভিভাবকহীন। প্রয়াত হলেন চা শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম বলিষ্ঠ এবং নির্ভীক কণ্ঠস্বর মণি কুমার দার্ণাল (৬৫)। শনিবার গভীর রাতে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে মারণ রোগ ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই প্রবীণ নেতা। তাঁর প্রয়াণের খবর চাউর হতেই চা বাগান জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নাগরাকাটার কূর্তি চা বাগানের এক শ্রমিক পরিবারে জন্ম মণি কুমারের। কিংবদন্তি নেতা সমীর রায়ের হাত ধরে ট্রেড ইউনিয়নে হাতেখড়ি হওয়া এই মানুষটি নিজের দক্ষতায় হয়ে উঠেছিলেন চা বলয়ের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’। আইএনটিইউসি-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং এনইউপিডব্লিউইউ-র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চা শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির লড়াইয়ে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান সেনাপতি। আলিপুরদুয়ার জেলা কংগ্রেসের সভাপতি বা অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করলেও, ক্ষমতার অলিন্দে থাকা বড় পদের প্রলোভন তাঁকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
মণি কুমার দার্ণালের প্রয়াণে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে শোক প্রকাশ করেছেন সব পক্ষের নেতৃত্ব। সিটু (CITU) রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলম তাঁকে ‘প্রকৃত বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শোকপ্রকাশ করেছেন তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং আইটিপিএ-র (ITPA) নেতৃত্বও। বীরপাড়ার সুভাষ পল্লীর বাসিন্দা মণি কুমারের মরদেহ এদিন তাঁর বাসভবনে আনা হলে হাজার হাজার শ্রমিক অশ্রুসজল চোখে শেষ শ্রদ্ধা জানান। চা বাগানের প্রতিটি পাতায় পাতায় আজ যেন প্রিয় নেতার বিদায়ে বিষণ্ণতার সুর।