নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: রোগী দেখার মাঝেই রক্তক্ষয়ী কাণ্ড। চেম্বারে ঢুকে এক হাতুড়ে ডাক্তারকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে পূর্ব বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, খুনের পর রক্তমাখা কাটারি হাতে নিয়ে যুবক নিজেই হাজির হন বর্ধমান থানায়। পুলিশের কাছে তাঁর স্বীকারোক্তি, “আমি এইমাত্র একজনকে খুন করে এলাম।”
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির নাম রাজা ভৌমিক। বাদামতলা এলাকায় হাতুড়ে ডাক্তার হিসেবে দীর্ঘদিনের পসার ছিল তাঁর। মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ তিনি নিজের চেম্বারে রোগী দেখছিলেন। সেই সময় জীবন রুইদাস নামে এক যুবক কাঁধের ব্যাগ নিয়ে সেখানে ঢোকেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যাগ থেকে কাটারি বার করে রাজার ওপর চড়াও হন তিনি। এলোপাথাড়ি কোপে রক্তাক্ত অবস্থায় চেম্বারেই লুটিয়ে পড়েন ওই চিকিৎসক। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
খুনের পর জীবন নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। উদ্ধার করা হয় রক্তাক্ত দেহটি। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জীবন পুলিশকে জানিয়েছেন, মাসখানেক আগে ওই চিকিৎসকের ‘ভুল চিকিৎসায়’ তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছিল। সেই শোক এবং আক্রোশ থেকেই প্রতিশোধ নিতে তিনি এই খুনের পরিকল্পনা করেন।
পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটি নিছকই প্রতিশোধ নাকি এর পিছনে যুবকের কোনো মানসিক বিকার বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।