নিউজ ডেস্ক: ক্যালেন্ডারে চৈত্র মাস চললেও তপ্ত দুপুরের দেখা নেই। এসি তো দূর, ফ্যান চালালেও গায়ে চাদর জড়াতে হচ্ছে শহরবাসীকে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, এক দশকের রেকর্ড ভেঙে গত মার্চ মাস কলকাতায় ছিল অস্বাভাবিক রকমের ‘শীতল’। চৈত্রের চিরাচরিত দাবদাহকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে মাঝেমধ্যেই কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়া আর বৃষ্টিতে মার্চের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা কম ছিল।
আবহাওয়াবিদদের মতে, নিয়মিত বিরতিতে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হওয়া এবং বৃষ্টির জেরেই এবার মার্চের তপ্ত মেজাজ মালুম হয়নি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির কারণে এবার কলকাতায় মার্চের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করেছে, যেখানে স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রা হওয়ার কথা ৩৩.৭ ডিগ্রি। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে ২ ডিগ্রিরও বেশি কম ছিল তাপমাত্রা।
পরিসংখ্যানের আয়নায় ‘শীতল’ মার্চ:
-
সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পতন: গত ২৩ মার্চ ব্যাপক ঝড়বৃষ্টির জেরে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ১১ ডিগ্রি কমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ২৩.২ ডিগ্রিতে। মঙ্গলবারও শহরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি কম (২৮.৭ ডিগ্রি) ছিল।
-
বিগত বছরের তুলনা: ২০২১ সালের ৩১ মার্চ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল ৩৯.৩ ডিগ্রিতে। ১৯৪১ সালের ২৩ মার্চ কলকাতার সর্বকালীন রেকর্ড তাপমাত্রা ছিল ৪১.১ ডিগ্রি। সেই তুলনায় এবারের মার্চ ছিল অনেক বেশি আরামদায়ক।
-
ব্যতিক্রমী ২৭ মার্চ: গোটা মাসে কেবল ২৭ মার্চ তাপমাত্রা ৩৪.৭ ডিগ্রিতে পৌঁছেছিল, যা এই সময়ের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হিসেবে গণ্য হয়।
কেন রাতে গরম আর ভোরে ঠান্ডা?
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমলেও এবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (ভোরবেলার তাপমাত্রা) স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল। এর প্রধান কারণ: ১. মেঘলা আকাশ: দিনের বেলা মেঘের কারণে সূর্যরশ্মি সরাসরি ঢুকতে বাধা পাওয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কম থাকছে। ২. তাপ বিকিরণে বাধা: রাতে ভূপৃষ্ঠ থেকে যে তাপ বিকিরিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়, মেঘলা আকাশ ও বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় সেই তাপ আটকে পড়ছে। ফলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩-২৬ ডিগ্রির নিচে নামছে না।
আবহাওয়া দপ্তর মাস শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করছে। আপাতত কালবৈশাখীর দাপট জারি থাকায় এপ্রিলের শুরুতেও খুব একটা চড়া রোদের দেখা মিলবে না বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে হাওয়া অফিস। শহরবাসী কি তবে এবার রেকর্ড ভাঙা দীর্ঘ বসন্তের আমেজ পেতে চলেছে? উত্তর দেবে এপ্রিলের আকাশ।