নিজস্ব সংবাদদাতা, চুঁচুড়া: প্রতিবেশী ছাগল চুরি করে পিকনিক করেছিলেন বন্ধুরা। সেই খবর মালিকের কানে পৌঁছে দেওয়াই কাল হয়েছিল তপন মালিকের। চরম আক্রোশে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুনের দায়ে পাঁচ বছর পর দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনাল চুঁচুড়া আদালত। মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রিন্টু শূর দোষী সাব্যস্ত দুই যুবক অনুপম দাস ও অরুণ পাশোয়ানের এই সাজা ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১২ জুলাই চুঁচুড়ার নন্দীর মাঠ এলাকায় কয়েকজন যুবক মিলে পিকনিক করছিলেন। অভিযোগ ছিল, এক প্রতিবেশীর ছাগল চুরি করে সেই মাংস দিয়ে ভোজ চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দা তপন মালিক সেই চুরির কথা মালিককে জানিয়ে দিলে এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। ওই দিনই বিকেলে তপনকে একা পেয়ে বেধড়ক মারধর করে অভিযুক্তরা। ঘটনার রাতেই তপনকে তাঁর বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন সকালে নন্দীর মাঠ এলাকা থেকেই তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তপনের মা রিতা মালিক চুঁচুড়া থানায় চার জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৮ অক্টোবর পুলিশ চার্জশিট জমা দেয়। মোট ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জন আদালতের সামনে সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ শুনানির পর তথ্যপ্রমাণের অভাবে চার জনের মধ্যে দুই জনকে আদালত মুক্তি দিলেও, অনুপম ও অরুণের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। বিচারক তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।