নিউজ ডেস্ক: খোদ শিক্ষকের বিরুদ্ধেই ছাত্রকে সর্বস্বান্ত করার অভিযোগ! স্কুল পরিদর্শকের দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষক পদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে এক ছাত্রের পরিবার থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক হাইস্কুল শিক্ষক। বুধবার রাতে কলকাতার আনন্দপুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক অনুপ প্রধানকে পাকড়াও করেছে। গত তিন বছর ধরে দফায় দফায় ওই বিপুল পরিমাণ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অনুপ প্রধান আগে বাঁকুড়ার একটি সরকার পোষিত উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। অভিযোগকারী ছাত্রটি তাঁর কাছেই অর্থনীতি পড়তেন। সেই সুবাদেই শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অভিযোগ, অনুপ ওই ছাত্রকে জানান যে শিক্ষা দপ্তরে তাঁর উচ্চপর্যায়ে জানাশোনা রয়েছে এবং মোটা টাকার বিনিময়ে তিনি সরকারি স্কুলে শিক্ষকতার স্থায়ী চাকরি করে দিতে পারবেন। চাকরির ‘রেট’ ধার্য করা হয় ৬০ লক্ষ টাকা। ছাত্রের পরিবারও ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মোট ৫৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অনুপের হাতে তুলে দেন।
ইতিমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষক বাঁকুড়া থেকে বদলি হয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার হরিনাভির একটি স্কুলে চলে আসেন এবং আনন্দপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন। ছাত্রের দাবি, বছরের পর বছর কেটে গেলেও চাকরির দেখা মেলেনি। টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় টালবাহানা। শেষ পর্যন্ত দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ছাত্র।
তদন্তে নেমে পুলিশ ওই ছাত্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছে, ১৯ লক্ষ টাকা সরাসরি অনলাইনে ট্রান্সফার করা হয়েছিল শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে। বাকি টাকাও ব্যাঙ্কের বিভিন্ন মাধ্যমেই লেনদেন হয়েছে। বুধবার রাতে অনুপকে আনন্দপুর থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় এবং টাকার উৎস নিয়ে সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিক্ষকের এমন ‘কীর্তি’র খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিক্ষা মহলে।