নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার প্রতিটি বুথকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছাতে চাইছে কমিশন। সেই লক্ষ্যেই জারি করা হয়েছে ৮ দফার এক কড়া নির্দেশিকা, যা ইতিমধ্যেই পোস্টার আকারে রাজ্যের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কলকাতা-সহ রাজ্যের সমস্ত জেলার ডিএম, এসপি এবং সিপি-দের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে এই পোস্টার সাঁটানো বাধ্যতামূলক এবং সেই কাজ শেষ করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে হবে কমিশনে।
কী আছে কমিশনের সেই ৮ দফা ‘অষ্টমঙ্গলা’য়?
নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকায় মূলত আটটি বিষয়কে পাখির চোখ করা হয়েছে, যা কার্যকর করতে নাছোড়বান্দা দিল্লির কর্তারা:
১. অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট: প্রতিটি ভোটার যাতে নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে হবে। ২. হিংসায় ‘জিরো টলারেন্স’: ভোটের আগে বা পরে কোনও রকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। অশান্তি পাকালেই কড়া আইনি ব্যবস্থা। ৩. ছাপ্পা রুখতে কড়াকড়ি: জাল ভোট বা ছাপ্পা রুখতে বুথের ভিতরে ও বাইরে কড়া নজরদারি চলবে। ৪. বুথ জ্যামিং নিষিদ্ধ: কোনও নির্দিষ্ট দলের হয়ে বুথ দখল বা ভোটারদের লাইনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না। ৫. ভয় দেখানোয় নিষেধাজ্ঞা: ভোটারদের ভয় দেখালে বা হুমকি দিলে কমিশন সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। ৬. প্ররোচনা রুখতে নজর: কোনও জাতি, ধর্ম বা বর্ণের সুড়সুড়ি দিয়ে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করা যাবে না। ৭. ‘সোর্স জ্যামিং’ রুখতে প্রযুক্তি: এবারের ভোটে এটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। বুথ বা বুথের বাইরে থাকা সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা এবং পুলিশের গাড়িতে থাকা জিপিএস (GPS) ব্যবস্থা কোনওভাবেই বিকল করা যাবে না। প্রযুক্তির ওপর এই ধরণের হস্তক্ষেপকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হবে। ৮. সরকারি কর্মীদের কড়া বার্তা: কোনও সরকারি বা আধা-সরকারি কর্মচারী যদি কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে সরাসরি কাজ করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে শুধু বিভাগীয় তদন্তই নয়, সরাসরি এফআইআর (FIR) ও কড়া শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১ এপ্রিলের ডেডলাইন ও প্রশাসনিক তৎপরতা:
কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, ১ এপ্রিলের মধ্যেই রাজ্যের সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে এই নির্দেশিকা সম্বলিত পোস্টার সাঁটানোর কাজ শেষ করতে হবে জেলা প্রশাসনকে। ইতিমধ্যই এই নির্দেশিকা রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ডিজিপি-র কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুথের পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের মন থেকে ভয় দূর করতেই এই ‘পোস্টার প্রচার’ বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “কমিশনের নির্দেশ মেনেই কাজ চলছে। প্রতিটি জেলায় পোস্টার মারার কাজ কতদূর এগোল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট তৈরি করে দিল্লিতে পাঠানো হচ্ছে।” ভোটের নির্ঘণ্ট বাজার আগেই কমিশনের এই কড়া অবস্থান বাংলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।