নিউজ ডেস্ক: অতলান্তিক মহাসাগরের সুবিশাল জলরাশির বুকে নিখোঁজ উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বাসিন্দা শ্রীকৃষ্ণ সরকার (৪৫)। গত মঙ্গলবার নরওয়ে জলসীমায় ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনার পর সাত দিন অতিক্রান্ত, কিন্তু এখনও মেলেনি কোনো হদিশ। ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, কাঁকপুলের সরকার বাড়িতে বাড়ছে উদ্বেগ। শোকাতুর স্ত্রী আর দুই সন্তানের চোখে এখন শুধুই প্রিয় মানুষের ফিরে আসার আকুল প্রার্থনা।
পেশায় মার্চেন্ট নেভির কর্মী শ্রীকৃষ্ণবাবু গত মঙ্গলবার মালটা থেকে সিমেন্ট বোঝাই জাহাজ নিয়ে আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। পরিবার সূত্রে খবর, ওইদিন নরওয়ে জলসীমার কাছে জাহাজের মাঝ ডেক-এ দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। অভিযোগ, আচমকা আসা এক পাহাড়প্রমাণ ঢেউ ডেক ভাসিয়ে তাঁকে সমুদ্রের অতলে টেনে নিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে জাহাজের কর্মীদের চোখের আড়ালে চলে যান তিনি। জাহাজ কর্তৃপক্ষ এবং নরওয়ে পুলিশ হেলিকপ্টার ও স্পিডবোট নিয়ে তল্লাশি চালালেও এখনও পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক খবর আসেনি।
পরিবারের কাছে এই দুর্ঘটনা আরও বেশি যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি কাকতালীয় ঘটনায়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ছিল শ্রীকৃষ্ণবাবুর ১৪ বছরের ছেলে ভাস্করের জন্মদিন। মাঝসমুদ্র থেকেই ভিডিও কলে ছেলের কেক কাটা দেখেছিলেন হাসিমুখের বাবা। স্ত্রী রাখিকে কথা দিয়েছিলেন, কাজ শেষ করে দ্রুত বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির কয়েক ঘণ্টা পরেই সংস্থা থেকে ফোন আসে শ্রীকৃষ্ণের নিখোঁজ হওয়ার।
নিখোঁজ নাবিকের শ্যালক সোম সরকারের অভিযোগ, বেসরকারি সংস্থার তরফে ‘সন্ধান চলছে’ বলা হলেও কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি দুর্ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। সোমবার কলকাতার নেভি ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে আধিকারিকদের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন পরিজনেরা। উত্তাল মহাসাগর কি কাউকে ফিরিয়ে দেয়? এই আশঙ্কার মাঝেই এক চিলতে আশার আলো খুঁজছে অশোকনগরের পরিবারটি।